

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রমজান মাসে ইফতার পার্টি বন্ধু, পরিবার বা অফিসের সঙ্গে মিলনমেলা ও সামাজিক অনুষ্ঠান হিসেবেও হয়ে থাকে। তবে এতে অনেক সময় আমরা বেশি খেয়ে ফেলি,
যা রোজার সওয়াব ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ওভার-ইটিং এড়িয়ে চলার জন্য কিছু সহজ কৌশল অনুসরণ করা যেতে পারে।
১. খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করুন
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“রোজা যখন খোলা হয়, তখন খেজুর দিয়ে খাও, যদি খেজুর না থাকে তাহলে পানি দিয়ে।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
আরও পড়ুনঃ অফিস ও রোজা: কাজের ফাঁকে ইবাদতের সময় বের করবেন কীভাবে?
খেজুর ও পানি দ্রুত শক্তি দেয় এবং পাকস্থলীকে প্রস্তুত করে।
এতে হঠাৎ বেশি খাওয়ার প্রবণতা কমে।
২. ছোট প্লেটে খাবার নিন ইফতার পার্টিতে বড় প্লেটে খাওয়া মানসিকভাবে বেশি খাওয়ার প্রবণতা বাড়ায়।
ছোট প্লেটে খাবার নিলে স্বাভাবিকভাবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৩. ধীরে খাওয়ার অভ্যাস করুন
প্রতিটি কামড় ধীরে চিবিয়ে নিন।
রোজার সময় দীর্ঘদিন না খেয়ে থাকার কারণে ক্ষুধা বেশি মনে হলেও, ধীরে খেলে পাকস্থলী পূর্ণতার সংকেত আগে বোঝে।
অন্তত ২০–২৫ মিনিট সময় দিয়ে খাবার খান।
আরও পড়ুনঃ শিক্ষার্থীদের জন্য রমজানের রুটিন: পড়ালেখা ও রোজার ভারসাম্য।
৪. হালকা ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নিন ইফতারের জন্য ভারী ভাজাপোড়া বা চর্বিযুক্ত খাবার বেশি এড়িয়ে চলুন।
স্যুপ, স্যালাড, ভাজা কম, প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার বেছে নিন।
যেমন: ডাল, মুরগির বুক, সেদ্ধ সবজি, হোল গ্রেইন রুটি।
৫. খাওয়া ভেঙে নেয়ার পরে বিরতি নিন ইফতার করার পর কিছু সময় বিশ্রাম নিন।
দোয়া, তাসবিহ বা হালকা হাঁটা করলে হজম সহজ হয়।
এতে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।
৬. মিষ্টি ও ডেজার্ট সীমিত রাখুন
ইফতার পার্টিতে মিষ্টি প্রলোভন বেশি থাকে।
প্রথমে হালকা খাবার খেয়ে শক্তি পুনরায় রাখুন।
ডেজার্টের পরিমাণ ছোট করুন, বেশি মিষ্টি রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়িয়ে দুর্বলতা বা ওজন বৃদ্ধি করতে পারে।
আরও পড়ুনঃ গরমে রোজা রেখে বাইরে বের হলে হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায়।
৭. পানিশূন্যতা ও হাইড্রেশন বজায় রাখুন
ইফতারের শুরুতে ১–২ গ্লাস পানি খেতে ভুলবেন না।
নারকেল পানি, লেবু পানি বা শরবতও হাইড্রেশন বজায় রাখতে সহায়ক।
পর্যাপ্ত পানি পেলে শরীর অতিরিক্ত খাবার চাওয়ার সংকেত কম বোঝে।
ইফতার পার্টিতে বেশি খাওয়া রোধ করতে খেজুর ও পানি দিয়ে শুরু করা, ছোট প্লেটে ধীরে খাওয়া, হালকা ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া, ডেজার্ট সীমিত রাখা এবং পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করা গুরুত্বপূর্ণ।
রাসূলুল্লাহ (সা.) খাওয়ার পরিমিতি ও সহজপাচ্য খাবারের গুরুত্ব দিয়েছেন। এই কৌশলগুলো মানলে রোজার সওয়াব বজায় থাকবে এবং স্বাস্থ্যও রক্ষা হবে।
মন্তব্য করুন

