রবিবার
১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ম্যাচ প্রিভিউ

যেসব বিষয় বদলে দিতে পারে ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচের ফলাফল

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:০২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ২০২৬-এ নতুন অধ্যায় শুরু করছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। দীর্ঘদিনের পরিচিত ‘সাম্বা’ ফুটবল থেকে বেরিয়ে এবার আরও কৌশলনির্ভর দল হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলেছে সেলেসাওরা। বিদেশি কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ২৪ বছরের শিরোপাখরা কাটানোর লক্ষ্য নিয়ে আজ (১৪ জুন) মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামছে তারা।

বাংলাদেশ সময় রোববার (১৪ জুন) ভোর ৪টায় গ্রুপ ‘সি’-এর এই ম্যাচটি শুরু হবে। মরক্কো গত বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে পৌঁছে ইউরোপের শক্তিশালী দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। আফ্রিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এবারও তারা ‘ডার্ক হর্স’ তকমা নিয়ে মাঠে নামছে।

কৌশলগত লড়াইয়ের মঞ্চ

ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচটিকে শুধু একটি গ্রুপ ম্যাচ নয়, বরং টপ-লেভেল ট্যাকটিক্যাল লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তির বিপক্ষে রয়েছেন মরক্কোর নতুন কোচ মোহাম্মেদ ওয়াহবি। দুই কোচের কৌশলগত পরিকল্পনা ম্যাচটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল এখন আর একক নৈপুণ্যনির্ভর দল নয়। তারা একটি কাঠামোবদ্ধ ইউনিট, যেখানে ট্রানজিশন, প্রেসিং এবং পজিশনাল প্লে নির্দিষ্ট পরিকল্পনায় পরিচালিত হয়। ম্যাচ অনুযায়ী দলটি ৪-৩-৩, ৪-২-৪ কিংবা রক্ষণে ৪-৪-২ কাঠামোয় পরিবর্তিত হতে পারে। আক্রমণে তারা কখনো ৩-২-৫ আবার কখনো ৩-১-৬ ফর্মেশনেও খেলতে পারে।

মাঝমাঠে ব্রাজিলের ভারসাম্য

মাঝমাঠে ক্যাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেসের ডাবল পিভট ব্রাজিলের মূল ভরসা। ক্যাসেমিরো রক্ষণাত্মক ভূমিকা পালন করে বল পুনরুদ্ধার করেন, আর গিমারেস বক্স-টু-বক্স খেলায় আক্রমণ ও রক্ষণ দুই দিকেই অবদান রাখেন। পাশাপাশি লুকাস পাকেতা মাঝমাঠে যোগ দিয়ে মাঝমাঠ আরও নিয়ন্ত্রিত রাখেন।

উইং আক্রমণই প্রধান অস্ত্র

ব্রাজিলের আক্রমণের মূল শক্তি ভিনিসিউস জুনিয়র ও রাফিনিয়া। তাদের লক্ষ্য থাকবে মরক্কোর ফুলব্যাকদের বিপক্ষে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ পরিস্থিতি তৈরি করে আক্রমণ করা। দ্রুত গতি ও ড্রিবলিংয়ের মাধ্যমে তারা প্রতিপক্ষ রক্ষণকে ভাঙার চেষ্টা করবেন এই দুই ফরোয়ার্ড।

মরক্কোর রক্ষণ ও পরিকল্পনা

মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের সংগঠিত ডিফেন্স। তবে ইনজুরির কারণে তাদের পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন এসেছে। প্রধান সেন্টারব্যাক নায়েফ আগুয়ের্ড ও আব্দে ইজ্জালজৌলি ছিটকে গেছেন, আর নুজাইর মাজরাউই আংশিক ইনজুরিতে রয়েছেন।

নতুন সেন্টারব্যাক জুটি হিসেবে ইসা দিওপ ও ছাদি রিয়াদকে দেখা যেতে পারে। তাদের সামনে রক্ষণভাগের মূল ঢাল হিসেবে থাকবেন সোফিয়ান আমরাবাত।

মরক্কোর পরিকল্পনা হলো লো-ব্লক তৈরি করে ব্রাজিলকে বাইরে দিয়ে আক্রমণে বাধ্য করা এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকের সুযোগ নেওয়া।

ট্রানজিশন আক্রমণ

মরক্কোর আক্রমণ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে দ্রুত ট্রানজিশনের ওপর। আশরাফ হাকিমি ও ব্রাহিম দিয়াজ এই কৌশলের মূল চালিকাশক্তি। বল জিতেই তারা দ্রুত সামনে উঠে ব্রাজিলের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন।

গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত লড়াই

এই ম্যাচে কয়েকটি ব্যক্তিগত দ্বৈরথ ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ভিনিসিউস জুনিয়র বনাম আশরাফ হাকিমি: গতি ও আক্রমণের লড়াই। হাকিমি আক্রমণে উঠলে তার পেছনের জায়গা ভিনিসিউসের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ক্যাসেমিরো বনাম ব্রাহিম দিয়াজ: মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণের লড়াই। দিয়াজকে স্পেস দিলে মরক্কো বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

মাথেউস কুনিয়া বনাম মরক্কোর নতুন সেন্টারব্যাক জুটি: ইনজুরিতে থাকা ডিফেন্সের বিরুদ্ধে কুনিয়ার ফর্ম বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

কাগজে-কলমে এ ম্যাচে ব্রাজিল কিছুটা এগিয়ে থাকলেও মরক্কোর সংগঠিত রক্ষণ, দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক এবং গত বিশ্বকাপের আত্মবিশ্বাস ম্যাচটিকে সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন