

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গ্রীষ্মকাল বা প্রচণ্ড রোদে রোজা রাখা বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। রোজার সময় পানি না পান করা এবং দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকা শরীরকে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিতে ফেলে।
হিটস্ট্রোক শরীরে উচ্চ তাপমাত্রা, ঘাম কমে যাওয়া ও শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে হতে পারে। তাই কিছু পদক্ষেপ মেনে চললে রোজা রেখে বাইরে থাকা নিরাপদ হয়।
১. হালকা ও ঢেকে থাকা পোশাক ব্যবহার করুন
হালকা, লুজ ফিটিং, হালকা রঙের কাপড় পরুন। টুপি বা স্কার্ফ দিয়ে মাথা ও গলার ওপর রোদ কমান। সূর্যের তাপে সরাসরি থাকা এড়িয়ে চলুন।
আরও পড়ুনঃ বয়স্কদের জন্য রমজানের বিশেষ ডায়েট চার্ট।
হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ সহজতা চায়, কঠিনতা নয়।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
তাই শরীরকে অতিরিক্ত উত্তাপ থেকে রক্ষা করা সুন্নাহ।
২. সূর্যের তাপ থেকে দূরে থাকুন
সম্ভব হলে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে সরাসরি রোদে থাকা এড়িয়ে চলুন। ছায়া, গাড়ির আন্ডারশেড বা ভবনের ছাদে থাকার চেষ্টা করুন।
৩. ধীরে ধীরে চলাফেরা করুন
দ্রুত বা ভারি কাজ করা এড়িয়ে চলুন। বাইরের কাজ করতে হলে হালকা হাঁটা বা স্লো মুভমেন্ট করুন। দীর্ঘসময় স্ট্যান্ডিং বা ভারি লিফটিং এড়িয়ে চলুন।
৪. ইফতার ও সাহরিতে হাইড্রেটিং খাবার গ্রহণ করুন
ইফতারে খেজুর, ডাবের পানি বা তরমুজের মতো জলধারী খাবার রাখুন। সাহরিতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। লবণ ও ইলেক্ট্রোলাইট নিয়ন্ত্রণের জন্য শাকসবজি, ড্রাই ফ্রুটস বা বাদাম খান।
আরও পড়ুনঃ অফিস ও রোজা: কাজের ফাঁকে ইবাদতের সময় বের করবেন কীভাবে?
৫. শরীরের সংকেত মেনে চলুন
হিটস্ট্রোকের সাধারণ উপসর্গ হলো: মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, মাথাব্যথা
ঘাম না আসা বা খুব কম আসা দ্রুত নিঃশ্বাস নেওয়া বমি ভাব বা চোখের দৃষ্টি ঝাপসা
যদি এসব উপসর্গ দেখা দেয়, তৎক্ষণাৎ রোজা ভেঙে পানি পান করা বা ছায়া-ঠান্ডা জায়গায় বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।
আরও পড়ুনঃ শিক্ষার্থীদের জন্য রমজানের রুটিন: পড়ালেখা ও রোজার ভারসাম্য।
৬. হালকা স্ট্রেচিং ও বিশ্রাম
বাইরে বের হওয়ার আগে হালকা স্ট্রেচিং করুন। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে মাঝে মাঝে ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিন।
গরমে রোজা রেখে বাইরে বের হলে হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচার জন্য হালকা ও ঢেকে থাকা পোশাক, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা, ধীরে চলাফেরা, হাইড্রেটিং খাবার এবং শরীরের সংকেত মেনে চলা অপরিহার্য।
রাসূলুল্লাহ (সা.) সহজতা ও স্বাস্থ্য রক্ষার গুরুত্ব দিয়েছেন, তাই রোজার সঙ্গে নিজের স্বাস্থ্যের সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে।
মন্তব্য করুন

