

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় নদ খননের মাটি নিলামের অর্থ ভাগাভাগি, সংঘর্ষ এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে স্থানীয় জামায়াতের তিন নেতার পদ স্থগিত করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সভা শেষে জেলা জামায়াতের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
পদ স্থগিত হওয়া নেতারা হলেন, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন, জেলা শুরা সদস্য মহিউল ইসলাম এবং পৌর টিম সদস্য ফারুক হোসেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে জামায়াতের স্থানীয় নেতারা দাবি করেছেন, এটি দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাজনিত সিদ্ধান্ত। চাঁদাবাজি বা মাটি বিক্রির অর্থ ভাগাভাগির অভিযোগ সঠিক নয়।
উপজেলা জামায়াতের আমির ফজলুল হক বলেন, ওই তিন নেতার পদ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। এটি দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। চাঁদাবাজি, মাটি বিক্রয়ের টাকা ভাগাভাগি, টেন্ডারবাজি অভিযোগ সত্য নয়। শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোন কাজ করায় বহিষ্কার করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান এটি তাদের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত, বাইরে প্রকাশ করা যাবে না।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল হরিহর নদ খনন থেকে উত্তোলিত মাটি বিক্রির অর্থ ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন এবং উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
পরবর্তীতে ওই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জেলা জামায়াত একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো এবং স্থানীয় কার্যক্রমে বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ উঠে আসে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় আহসান হাবিব লিটনকে দুই মাস, মহিউল ইসলামকে তিন মাস এবং ফারুক হোসেনকে দুই মাসের জন্য পদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে বিষয়টি শুরুতে গোপন রাখা হলেও পরে তা প্রকাশ্যে আসে।
এ বিষয়ে আহসান হাবিব লিটন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিক নয় এবং তিনি বা তার সংগঠন এমন কোনো কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেন না।
অন্যদিকে তদন্ত কমিটির প্রধান আরশাদুল আলম জানান, তিন নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে কী কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
