

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে হাসপাতালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পরে লাশ আটকে রাখা, জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ থাকা ও এক ব্যক্তিকে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, রোগীকে যথাযথভাবে অক্সিজেন না দেওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের দাবি, রোগীর মৃত্যুর পর উত্তেজিত স্বজনরা চিকিৎসকদের ওপর হামলা করেন।
স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (রাত আড়াইটার দিকে) রংপুর নগরীর নিউ জুম্মপাড়া এলাকার নুরজাহান বেগম (৫৫) অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ভর্তির আগে অক্সিজেন দিতে অনুরোধ করা হলেও আগে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে রাত প্রায় ৪টার দিকে তিনি মারা যান।
চিকিৎসকদের অভিযোগ, মৃত্যুর পর স্বজনরা চিকিৎসকদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং লাশ মর্গে রাখা হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসকরা প্রতিবাদ হিসেবে কয়েক ঘণ্টা জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রাখেন।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, মৃতের ছেলে রিফাত হোসেনকে পরে হাসপাতালে ডেকে আনা হয়। পরে মায়ের লাশ ফেরত দেওয়ার শর্তে তাকে হাসপাতালের একটি কক্ষে কান ধরে ওঠবস করানো হয়। প্রায় ১১ ঘণ্টা পর বিকেল ৩টার দিকে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
মৃতের বড় ছেলে নুরুজ্জামান রিন্টু জানান, তার স্ত্রী ফোন করে মায়ের অসুস্থতার খবর দেন। হাসপাতালে এসে দেখেন, উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে মায়ের লাশ আটকে রাখা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পরও লাশ নামিয়ে নেয়া হয়। লাশ দিতে গড়িমসি করায় বেলা দেড়টার দিকে লাশ নেয়ার দাবিতে মেডিক্যাল মোড় এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা।
অন্যদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত লাশ হস্তান্তর করা হয়নি। তাদের ভাষ্য, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে এসে ক্ষমা চাইতে হয়েছে।
রংপুর ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মিরাজ বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে বলে আসছিলাম লাশ নিয়ে আমাদের কোনও বক্তব্য নেই। তবে যে ব্যক্তি চিকিৎসকদের ওপর হামলা করেছে তাকে এখানে আসতে হবে। যেহেতু আমাদের দাবি তাকে আইনের আওতায় আনার, এরপরই লাশ নিয়ে যেতে দেবো বলেছি আমরা। বিকেলে অভিযুক্ত ছেলে এসে কান ধরে ওঠবস করে ক্ষমা চেয়ে লাশ নিয়ে গেছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। রোগীকে হাসপাতালে আনার পরপরই মৃত্যু হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দায়িত্বরত চিকিৎসকের গাফিলতি ছিল না। কোনও কারণ ছাড়াই চিকিৎসক নাঈম, রাকিবসহ অন্যদের মারধরের চেষ্টা করা হয়। এমনকি দায়িত্বরত নার্সের সঙ্গেও অশোভন আচরণ করা হয়েছে। রোগীর স্বজনরা যে আচরণ করেছেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করিয়ে মায়ের লাশ ফেরত বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটিও খুবই নিন্দনীয় ঘটনা।’
