

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা প্রস্তাবিত বাজেটের রাজস্ব আহরণ, ঋণনির্ভরতা, বিনিয়োগ পরিস্থিতি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে কম বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে উদাহরণ দিয়ে বলেন, সত্ টাকায় একজন সংসদ সদস্যের কি ঢাকায় প্রাসাদোপম বাড়ি তৈরি করা সম্ভব? গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, অর্থমন্ত্রী নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিপণ্যের ওপর উেস কর ৫, ২ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছেন। এতে চাল, ডালসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কিছুটা কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এরপর প্রস্তাবিত বাজেট কতটা বাস্তবসম্মত, সে প্রশ্ন তুলে একটি গল্প বলেন রুমিন ফারহানা।
তিনি বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য, ওনার নাম ধরে নিলাম মফিজ। সেই সদস্যের মাসে বেতন যদি ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা হয়। এর বাইরে তার কোনো গার্মেন্ট ব্যবসা নেই। তার কোনো ইয়াবা ব্যবসা নেই। তার কোনো অস্ত্রের ব্যবসা নেই। তার কোনো অবৈধ ব্যবসা নেই। কিন্তু তার স্বপ্ন হলো ঢাকা শহরে তিন একর জায়গার ওপরে প্রাসাদোপম বাড়ি তৈরি করে সামনে একখানা সুইমিংপুল থাকবে; হরিণ, ম্যাকাও পাখি পুষবেন। কিন্তু তার এই ১ লাখ ৭৬ হাজার সত্ টাকায় কি ঢাকায় তিন একর জায়গায় প্রাসাদোপম বাড়ি তৈরি করা সম্ভব? সম্ভব নয়।’
এরপর রুমিন ফারহানা বলেন, ‘ঠিক একইভাবে যখন ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট আসে, তখন আমরা বুঝতে পারি এই বাজেটটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে। বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওপরই ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত এনবিআর আদায় করতে পেরেছে মাত্র ৩ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি।’
স্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্য প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘যে প্রতিষ্ঠান ১০ মাসে ৩ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি তুলতে পারেনি, তাকে এক বছরে ৬ লাখ কোটি টাকার বেশি আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া কতটা বাস্তবসম্মত?’ তার মতে, এনবিআর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলে বাজেটঘাটতি আরো বাড়বে। তখন সরকারকে দেশীয় ব্যাংকিং খাত থেকে আরো বেশি ঋণ নিতে হবে, যা ব্যক্তি খাতে ঋণপ্রবাহ কমিয়ে দেবে।
