বৃহস্পতিবার
১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিজার্ভ চুরিতে আতিউর রহমানসহ ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা মিলেছে

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬, ১২:১২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় এক দশকব্যাপী তদন্ত শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের বহুল আলোচিত রিজার্ভ চুরির মামলায় খসড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আইনি পরামর্শের জন্য খসড়া অভিযোগপত্রটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির এ ঘটনায় দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) গণমাধ্যমের কাছে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির মুখপাত্র জসীমউদ্দিন খান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলার খসড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়।

প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার এই খসড়া অভিযোগপত্রটি চূড়ান্ত আইনি পরামর্শের জন্য এরই মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

খসড়া অভিযোগপত্রে মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এর মধ্যে ফিলিপাইনের ৩৬, নর্থ কোরিয়ার ২, চীনের ৩, শ্রীলঙ্কার ৮, জাপানের ১, ভারতের ৪ এবং বাংলাদেশের ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।

রিজার্ভ চুরিতে বাংলাদেশের জড়িত যারা

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তদন্তে তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমানের নানা গাফিলতি, ঘটনা গোপন করা, আলামত মুছে দেওয়ার চেষ্টাসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে আসে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে চার্জশিটভুক্ত না করতে অদৃশ্য চাপ আসে। তবে চূড়ান্ত চার্জশিটে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎকালীন প্রধান আতিউর রহমান আসামির তালিকায় রয়েছেন।

এছাড়া ওই সময়ের ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সভাপতি আনিস এ খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক মহাব্যবস্থাপক কে এম আবদুল ওয়াদুদ, সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক রেজাউল করিম, তৎকালীন উপমহাব্যবস্থাপক মেজবাউল হক, সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহাসহ ৯ কর্মকর্তার নাম রয়েছে।

ফিলিপাইনের আসামি যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান

বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের কাম সিন ওং, মায়া সান্তোস দেগুইতো, রাউল ভিক্টর বি তান, ব্রিজিট আর কাপিনা, নেস্তর ও পিনেদা, রোমুয়ালদো এস আগারাডো, অ্যাঞ্জেলা রুথ এস টরেস, লোরেঞ্জো তান, মিস ন্যান্সি, জাও কিওগ, ডেনিস সি ব্যানকোড, ইসমায়েল আর রেইস, সাবিনো এম ইকো, মিস লিজেন্ড জে রাসেলা, রিচার্ড ইনসাইন, উইলিয়াম সোঁ গো (মৃত্যুবরণ করেছেন), সালুদ রেইস বাউতিস্তা শেবা, মিশেল বাউতিস্তা কনকন, অ্যান্থনি এ পেলেজো, জন ইউ, লুইস ফাব্রেগাস খো, ম্যান পো চান, মিং ই সাইমন সি, রোজালিও পরানতা তান্দুয়ান, এনরিকে কে রাজোন, থমাস আরাসি, জোসে এডুয়ার্ডো জে আলারিলা, ক্রিশ্চিয়ান আর গনজালেস, ডোনাটো সি আলমেইদা ও ফ্লিন্ট রিচার্ডসনের নাম এসেছে। এছাড়া দেশটির রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন, ফিলরেম সার্ভিস করপোরেশন, সেঞ্চুরিটেক্স ট্রেডিং, আব্বা কারেন্সি এক্সচেঞ্জ, ইনকরপোরেশন, বিকন কারেন্সি এক্সচেঞ্জ ইনকরপোরেশন, মিডাস ক্যাসিনো ও সোলেয়ার রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনোর নাম রয়েছে আসামির তালিকায়।

ভারতের আসামি যারা

ভারতের নাগরিক নীলাভান্নান মাদুক্কুর আনন্দন, প্রীতম রেড্ডি, সুধীন্দ্র আত্রেশ ও রাকেশ আস্তানা।

এছাড়া উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার পার্ক জিন হিয়োক ও প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাজারাস গ্রুপ, চীনের ৩ নাগরিক ডিং ঝিজে, গাও শুহুয়া ও ওয়েইকাং জু এবং জাপানি নাগরিক সাসাকির নাম রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার ৭ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠান অভিযুক্ত

শ্রীলঙ্কার আসামির মধ্যে হেগোডা গামাগে শালিকা পেরেরা, ইমিয়াগে ডন মিউরিন রানাসিংহে, রামানায়েক আরাচ্চিগে ডন প্রদীপ রোহিত দামকিন, বুলুগাহা আরামবেগেদারা সাঞ্জিবা তিসা বান্দারা, ওয়েরাপুলি মুহান্দিরামগে প্রিয়াঙ্কা জয়দেব, লুয়াইস হান্নাদিগে শিরানি ধম্মিকা ফার্নান্দো ও নিশান্ত নলক ওয়ালাকুলু আরাচ্চি নাম রয়েছে। প্রতিষ্ঠান হিসেবে শালিকা ফাউন্ডেশনের নাম রয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অজ্ঞাতনামা হ্যাকাররা নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরি করে। এর মধ্যে ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকে থাকা চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয় এবং বাকি ২০ মিলিয়ন ডলার শ্রীলঙ্কার একটি ব্যাংকে পাঠানো হয়।

যদিও হ্যাকারদের বানান ভুলের কারণে শ্রীলঙ্কায় ২০ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তরের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক ফিলিপাইন থেকে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন উপ-পরিচালক (হিসাব ও বাজেটিং) জোবায়ের বিন হুদা ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মামলাটি করেন।

মামলাটি বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলায় ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুততম সময়ে এই অর্থ বাংলাদেশে ফেরত আনা হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Czechia VS South Africa
Scheduled
18 Jun, 10:00 PM
VS
World Cup