বৃহস্পতিবার
১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেলের দামে বড় পতন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটবে, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হবে এবং তেহরানের তেলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এতে করেন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন দেখে গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ ‍জুন) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিট পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক শূন্য ২ ডলার বা ১ দশমিক ২৮ শতাংশ কমে ৭৮ দশমিক ৫৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৪৮ ডলার বা ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ কমে ৭৫ দশমিক ৩১ ডলারে নেমেছে।

এদিন সকাল ৬টা ৫ মিনিট নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৯ সেন্ট বা ১ দশমিক ১২ শতাংশ কমে ৭৮ শতাংশ ৬৬ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময় ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৯৮ সেন্ট বা ১ দশমিক ২৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৫ দশমিক ৮১ ডলারে নেমে আসে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রাথমিক সামরিক হামলার পর অর্থাৎ গত ২ মার্চের পর থেকে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বাজার ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, মার্কিন তেলের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দর ছিল গত ৪ মার্চের পর থেকে সর্বনিম্ন।

আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্রোকারেজ সংস্থা আইজি’র বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর এক নোটে জানান, সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) পর জ্বালানি বাজারে এর জোরালো প্রভাব পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত বাজারে ইরানি তেলের সরবরাহ ফিরবে। আর এই পূর্বাভাসের কারণেই তেলের বাজারে বিক্রিবাট্টার চাপ আরও বেড়েছে এবং দাম কমছে।

উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে ৬০ দিনব্যাপী একটি আনুষ্ঠানিক আলোচনা পর্ব শুরু হয়েছে। চুক্তির শর্তানুযায়ী, ইরান তেল ও গ্যাস পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে টোলমুক্ত যাতায়াতের অনুমতি দেবে।

এ ছাড়া আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই প্রণালিটি দিয়ে নৌযান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক ও পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার বিষয়েও চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

যদিও প্রাথমিক এই চুক্তিটিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো দীর্ঘদিনের অনেক জটিল ও কঠিন বিষয়গুলোকে আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠন ও দেশটির পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে অর্থায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল তহবিল বা পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই চুক্তিতে।

যদি চুক্তিটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয় ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হয়, তবে চলতি বছরের সরবরাহ সংকট ২০২৭ সালে একটি উল্লেখযোগ্য সরবরাহ আধিক্যে পরিণত হতে পারে বলে বুধবার সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটি তার মাসিক বাজার প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের তেল বাজারে ফিরে আসায় আগামী বছর সরবরাহ চাহিদাকে দৈনিক ৫০ দশমিক ৫ লাখ ব্যারেল ছাড়িয়ে যাবে।

মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চলতি বছরের শেষের দিকে সুদের হার বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তবে সুদের হার বাড়ানো হলে তা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর করে দিতে পারে এবং জ্বালানি তেলের চাহিদাও কমিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গতকাল বুধবার প্রকাশিত এক পূর্বাভাসে দেখা গেছে, ফেডারেল রিজার্ভের ১৯ জন নীতি-নির্ধারকের মধ্যে নয়জনই এখন সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। এটি মাত্র তিন মাস আগের পরিস্থিতির তুলনায় একটি বড় পরিবর্তন; কারণ সে সময় নীতিনির্ধারকদের কেউই সুদের হার বাড়ানোর এই মত পোষণ করেননি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
LIVE
Czechia VS South Africa
60'
1 - 0
6' Michal Sadílek
World Cup