

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা পে স্কেলের রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো, পেনশন সুবিধায় বড় সমন্বয় এবং বিভিন্ন ভাতা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে স্কেলের গেজেট যে কোনো সময় প্রকাশ হতে পারে। গেজেট জারির পর আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
পুরো কাঠামো একবারে কার্যকর না করে তিন ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি ব্যয়ের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে প্রথম গ্রেডের বর্তমান ৭৮ হাজার টাকার মূল বেতন বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার টাকায়। দ্বিতীয় থেকে দশম গ্রেড পর্যন্তও একই হারে বেতন পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
তবে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির হার আরও বেশি—এমন একটি বিকল্প প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে, যেখানে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে।
বেতন কাঠামোর পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা ও পেনশন ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। বৈশাখী ভাতা বর্তমান ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
শিক্ষা ভাতাও পুনর্নির্ধারণের আওতায় আসছে। বর্তমানে মাসিক ১ হাজার ৫০০ টাকা শিক্ষা ভাতা বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পেনশন সুবিধাতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে মাসিক পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হতে আগস্ট বা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে সুবিধাগুলো জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হবে, ফলে চাকরিজীবীরা পরে বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন ও ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
এর আগে সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর হয় ২০১৫ সালে। গত এক দশকে খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বাস্তব আয়ের চাপ বেড়েছে সরকারি চাকরিজীবীদের ওপর। এই প্রেক্ষাপটেই নতুন পে স্কেলে নিম্ন আয়ের কর্মীদের সুবিধাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
