

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের যোগাযোগের ধরনকে আমূল বদলে দিয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, ব্যক্তিগত আলাপচারিতা চালানো কিংবা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও ভার্চুয়াল মিটিংয়ে অংশ নেওয়া; সবকিছুই সহজ হয়েছে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে।
একইভাবে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের বৈশ্বিক পরিসরে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। প্রিয় তারকা বা কনটেন্ট নির্মাতাদের অনুসরণ করা, ছবি ও ভিডিও উপভোগ করা—এসবই এতদিন ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই বিনামূল্যে করা যেত। তবে এখন এই প্ল্যাটফর্মগুলোর কিছু বিশেষ সুবিধা ব্যবহারের জন্য অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে।
ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটা সম্প্রতি ব্যবহারকারীদের জন্য বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবা চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফেসবুক প্লাস, ইনস্টাগ্রাম প্লাস এবং হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস। এসব পরিষেবার জন্য ব্যবহারকারীদের মাসিক নির্দিষ্ট ফি প্রদান করতে হচ্ছে।
এ ছাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কনটেন্ট নির্মাতা এবং মেটা এআই ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন এআই-ভিত্তিক সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি যারা আরও উন্নত সুবিধা চান, তাদের জন্য বিভিন্ন প্রিমিয়াম বা উন্নত সংস্করণ নিয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে দ্রুত বাড়তে থাকা বিনিয়োগের ব্যয় সামাল দিতে মেটার এমন উদ্যোগ প্রয়োজন হয়ে উঠেছে। তাদের ধারণা, এআই প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে মেটা ব্যাপক বিনিয়োগ করছে এবং সেই বিনিয়োগের আর্থিক ভিত্তি নিশ্চিত করতে নতুন আয়ের উৎস খুঁজছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, মেটা এআই অবকাঠামো উন্নয়নে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে। ফলে শুধু বিজ্ঞাপননির্ভর আয়ের ওপর নির্ভর না থেকে প্রতিষ্ঠানটি আরও স্থায়ী ও পূর্বানুমানযোগ্য রাজস্বের উৎস গড়ে তুলতে চায়। এদিকে এআই প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে অনলাইনে তথ্য অনুসন্ধান ও কনটেন্ট ব্যবহারের ধরনও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, মেটা এখনো মাইক্রোসফট বা গুগলের মতো বড় করপোরেট গ্রাহকদের মধ্যে একই মাত্রার গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। এ কারণে নতুন সাবস্ক্রিপশন মডেল অনেক সাধারণ ব্যবহারকারীর কাছে নেতিবাচক হিসেবেও প্রতীয়মান হতে পারে।
কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবা থেকে মেটার আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। যদিও অনেক বিশ্লেষক এসব সম্ভাব্য আয়ের হিসাবকে অতিরিক্ত আশাবাদী বলে মনে করছেন।
মেটার আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মোট আয়ের বড় অংশই এখনো বিজ্ঞাপন থেকে আসে। দীর্ঘ সময় ধরে পরিচালিত হলেও প্রতিষ্ঠানটি বিজ্ঞাপনের বাইরে উল্লেখযোগ্য আয়ের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারেনি। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বিভিন্ন খাতে আয় বৈচিত্র্য আনতে সক্ষম হয়েছে। ফলে মেটাও নতুন ব্যবসায়িক মডেল ও আয়ের উৎস খুঁজতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
কিছু এআই বিশেষজ্ঞের মতে, পেইড সেবাগুলো মূলত প্রতিষ্ঠানটির বিপুল প্রযুক্তিগত বিনিয়োগের খরচ আংশিকভাবে পুনরুদ্ধারের একটি প্রচেষ্টা। তাদের ধারণা, উন্নত সুবিধা ও অতিরিক্ত ফিচারের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে মেটা ভবিষ্যতের এআই-কেন্দ্রিক ব্যবসায়িক কৌশলকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে।
