বৃহস্পতিবার
১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এনআইডি বিক্রি করে ৩০ দিনে ১১ কোটি টাকা, ইসির দুই কর্মচারী গ্রেফতার

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২২ পিএম
গ্রেফতার ইসির দুই কর্মচারী। ছবি: সংগৃহীত
expand
গ্রেফতার ইসির দুই কর্মচারী। ছবি: সংগৃহীত

সর্ষের ভেতরেই ভূত! সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের পাহাড় যেখানে জমা থাকে, সেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সুরক্ষিত সার্ভারই হয়ে উঠেছিল এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার আয়ের খনি।

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতির মাধ্যমে নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য অবৈধভাবে সরবরাহের অভিযোগে গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের দুই কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাদের বিরুদ্ধে মাসে কোটি টাকার বেশি অবৈধ আয় করার অভিযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার।

গ্রেপ্তাররা হলেন গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. হাবীবুল্লাহ (৪১) এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. আলামিন (৩৯)।

সিআইডি বলছে, মাত্র ৩০ দিনে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি এনআইডি তথ্য সরবরাহ করেছে চক্রটি। প্রতিটি তথ্য ২০০-৩০০ টাকা হিসেবে হিসাব করলে অবৈধভাবে প্রায় ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার বলেন, গোপন ত‌থ্যে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন অফিস এলাকা থেকে মো. আলামিনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে একইদিন দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকা থেকে মো. হাবীবুল্লাহকেও গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

তি‌নি ব‌লেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রেফতার আলামিনের কাছে নির্বাচন কমিশনের একটি গোপন আইডি ও পাসওয়ার্ড ছিল। যার মাধ্যমে সারা দেশের নাগরিকদের এনআইডি তথ্য যাচাই করা সম্ভব হতো। এগু‌লো তিনি পূর্বপরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার সূত্রে হাবীবুল্লাহকে সরবরাহ করেন। এর বিনিময়ে প্রতি সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা উৎকোচ নিতেন।

অপরদিকে, হাবীবুল্লাহ ওই গোপন আইডি ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্রের সংবেদনশীল তথ্য জনপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতেন।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাত্র এক সপ্তাহে এক লাখ ১২ হাজার ১৫০টি এবং ৩০ দিনে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি এনআইডি তথ্য সরবরাহ করেছে তারা। প্রতিটি তথ্য ৩০০ টাকা হিসেবে হিসাব করলে অবৈধভাবে প্রায় ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ডিআইজি আবুল বাশার তালুকদার বলেন, এ অর্থ দিয়ে হাবীবুল্লাহ ঢাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাটসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ওটিপি ট্রান্সফারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সার্ভারে প্রবেশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে তথ্য বিক্রি করতেন। এ ঘটনায় পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে সিআইডির এই ডিআইজি বলেন, এ চক্রে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X