

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সঠিক পুষ্টির মাধ্যমে থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখা এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।
আয়োডিনের ভূমিকা
থাইরয়েড হরমোন (T3 ও T4) তৈরির জন্য আয়োডিন একটি অত্যাবশ্যকীয় খনিজ উপাদান। শরীরে আয়োডিনের অভাব হলে থাইরয়েড গ্রন্থি ঠিকমতো কাজ করতে পারে না, যা হাইপোথাইরয়েডিজমের কারণ হতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, শরীরে যেমন আয়োডিনের ঘাটতি ক্ষতিকর, তেমনই অতিরিক্ত আয়োডিন গ্রহণও হাইপারথাইরয়েডিজম বা অটোইমিউন থাইরয়েডের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।
তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারে আয়োডিনের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
উপকারী খাবার (কী খাবেন)
থাইরয়েডের রোগীদের খাদ্যতালিকায় এমন কিছু খাবার রাখা উচিত যা হরমোন উৎপাদনে এবং মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে:
আয়োডিনযুক্ত খাবার: পরিমিত পরিমাণে আয়োডিনযুক্ত লবণ, সামুদ্রিক মাছ (যেমন: টুনা, স্যামন) এবং ডিম।
সেলেনিয়াম ও জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার: থাইরয়েড হরমোন সক্রিয় করতে সেলেনিয়াম ও জিঙ্ক প্রয়োজন। এজন্য মুরগির মাংস, গরুর মাংস (চর্বিহীন), ডাল, বাদাম (বিশেষ করে কাঠবাদাম ও কাজুবাদাম) এবং কুমড়োর বীজ বেশ উপকারী।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার: তাজা শাকসবজি এবং রঙিন ফলমূল (যেমন: বেরি, আপেল, পেয়ারা) শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
পর্যাপ্ত পানি: মেটাবলিজম ঠিক রাখতে দৈনিক ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত।
এড়িয়ে চলার খাবার (কী খাবেন না)
কিছু খাবার থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে বাধা দেয় কিংবা ওষুধের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, তাই এগুলো এড়িয়ে চলা বা সীমিত করা উচিত:
গয়ট্রোজেনিক খাবার: বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, শালগম এবং মুলা কাঁচা অবস্থায় খাওয়া একদম নিষেধ। তবে এগুলো ভালো করে সেদ্ধ বা রান্না করে অল্প পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।
সয়াবিন ও সয়া জাতীয় খাবার: সয়াবিন, সয়া মিল্ক বা টফু থাইরয়েড হরমোনের শোষণে বাধা দেয়। বিশেষ করে থাইরয়েডের ওষুধ খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সয়া জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত নয়।
প্রক্রিয়াজাত ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার: ফাস্ট ফুড, কোমল পানীয়, প্যাকেটজাত খাবার এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার মেটাবলিজম আরও ধীর করে দেয় এবং ওজন বাড়িয়ে দেয়।
ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল: অতিরিক্ত চা, কফি বা অ্যালকোহল থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা ব্যাহত করে।
জীবনযাত্রার পরিবর্তন
কেবল ডায়েট নয়, থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে রাখতে দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনা জরুরি:
নিয়মিত ব্যায়াম: সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ধাঁচের ব্যায়াম (যেমন: দ্রুত হাঁটা, সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালানো) মেটাবলিজম বাড়াতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
পর্যাপ্ত ঘুম: হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখতে প্রতি রাতে ৭-৮ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন ঘুম অত্যন্ত জরুরি।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত মানসিক চাপ থাইরয়েডের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই স্ট্রেস কমাতে ইয়োগা, মেডিটেশন বা পছন্দের কাজের জন্য সময় বের করুন।
ওষুধ খাওয়ার সঠিক নিয়ম: চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিদিন সকালে খালিপেটে থাইরয়েডের ওষুধ খেতে হবে এবং ওষুধ খাওয়ার অন্তত ৩০-৬০ মিনিট পর সকালের নাস্তা বা চা-কফি খাওয়া উচিত।
বিশেষ সতর্কবার্তা
হাইপোথাইরয়েডিজম (হরমোনের ঘাটতি) এবং হাইপারথাইরয়েডিজম (হরমোনের আধিক্য)—এই দুই ক্ষেত্রেই ডায়েট কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
তাই আপনার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে একজন রেজিস্টার্ড পুষ্টিবিদের (Nutritionist) কাছ থেকে একটি ব্যক্তিগত ডায়েট চার্ট তৈরি করিয়ে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
