

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মানবদেহের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের মূল চালিকাশক্তি হলো থাইরয়েড গ্রন্থি। গলার সামনের অংশে প্রজাপতি আকৃতির এই ছোট্ট গ্রন্থিটি থেকে নিঃসৃত হরমোন আমাদের শক্তি, কার্যক্ষমতা এবং শারীরিক ভারসাম্য বজায় রাখে।
তবে হরমোনের এই সুক্ষ্ম ভারসাম্যে সামান্য তারতম্য ঘটলেই শরীরে নানা জটিলতা দেখা দেয়। লক্ষণীয় বিষয় হলো, থাইরয়েডের সমস্যা নারী ও পুরুষভেদে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে এবং ভিন্ন তীব্রতায় প্রকাশ পেতে পারে।
শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে এবং সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে নারী ও পুরুষের শরীরে থাইরয়েডের লক্ষণের এই ভিন্নতা এবং এর ধরণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
সাধারণত নারীদের মধ্যে থাইরয়েডের সমস্যা বেশি দেখা দিলেও, পুরুষদের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো অনেক সময় বেশ তীব্র হয়।
হাইপোথাইরয়েডিজমের লক্ষণ (থাইরয়েড হরমোন কমে গেলে)
যখন থাইরয়েড গ্রন্থি পর্যাপ্ত হরমোন তৈরি করতে পারে না, তখন শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়।
নারীদের ক্ষেত্রে: নারীদের ক্ষেত্রে প্রধান লক্ষণ হলো চরম ক্লান্তি, হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি, ত্বক ও চুল খসখসে হয়ে যাওয়া এবং অতিরিক্ত শীত লাগা। এছাড়া পিরিয়ড বা মাসিকের অনিয়ম (যেমন: অতিরিক্ত রক্তপাত বা সময়মতো মাসিক না হওয়া) এবং বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
পুরুষদের ক্ষেত্রে: পুরুষদের মধ্যেও ক্লান্তি এবং ওজন বৃদ্ধির সমস্যা হয়। তবে বিশেষভাবে তাদের পেশির শক্তি কমে যায় এবং জয়েন্টে ব্যথা হতে পারে। হরমোনের ঘাটতির কারণে পুরুষত্বহীনতা (Erectile Dysfunction), যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া এবং শুক্রাণুর সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।
হাইপারথাইরয়েডিজমের লক্ষণ (থাইরয়েড হরমোন বেড়ে গেলে)
শরীরে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি থাইরয়েড হরমোন তৈরি হলে মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া খুব দ্রুত কাজ করা শুরু করে।
নারীদের ক্ষেত্রে: নারীদের হঠাৎ করেই দ্রুত ওজন কমতে থাকে, মেজাজ খিটখিটে হয় বা উদ্বেগ (Anxiety) বাড়ে এবং অতিরিক্ত গরম লাগে। বুক ধড়ফড় করা, হাত কাঁপা এবং মাসিকের রক্তপাত স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমে যাওয়া বা মাসিক একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়।
পুরুষদের ক্ষেত্রে: পুরুষদের ক্ষেত্রেও দ্রুত ওজন হ্রাস ও মাংসপেশির দুর্বলতা দেখা দেয়। তবে হরমোনের আধিক্যের কারণে পুরুষদের স্তন গ্রন্থি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে (Gynecomastia)। এছাড়া চুল পড়ে যাওয়া এবং অতিরিক্ত মাত্রায় নার্ভাসনেস বা অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
যদি আপনার শরীরে ওপরের লক্ষণগুলোর মধ্যে একাধিক লক্ষণ দেখা দেয়, তবে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে:
যদি কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ ওজন অনেক বেড়ে যায় বা কমে যায়।
সবসময় অতিরিক্ত ক্লান্তি বা অবসাদ অনুভব করেন, যা পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও দূর হয় না।
নারীদের ক্ষেত্রে মাসিকের দীর্ঘস্থায়ী অনিয়ম দেখা দিলে বা গর্ভধারণে সমস্যা হলে।
পুরুষদের ক্ষেত্রে যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া বা শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিলে।
গলার সামনের অংশ ফুলে উঠলে (গলগণ্ড বা Goiter)।
একটি সহজ রক্ত পরীক্ষা (TSH, Free T3, Free T4) এর মাধ্যমেই থাইরয়েডের সমস্যা নিশ্চিত হওয়া যায়। লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হরমোন বিশেষজ্ঞ (Endocrinologist) বা একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক চিকিৎসা শুরু করা উচিত।
