রবিবার
১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন প্রশাসনের এক সিদ্ধান্তেই রাবিতে বন্ধ আয়ের পথ

রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
expand
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সময় শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা হয়েছিল একটি পার্ট-টাইম কর্মসূচি। এই কর্মসূচির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি প্রবেশপথে বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও কমিউনিটি পুলিশিং-এই তিন সংগঠনের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে চেকপোস্ট পরিচালনা করে বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণ এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হতো। একই সঙ্গে এই দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে শিক্ষার্থীরা সম্মানী পেতেন, যা অনেকের জন্য পড়াশোনা ও দৈনন্দিন খরচ চালানোর গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ছিল।

তবে নতুন প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর কর্মসূচিটি বন্ধ হয়ে যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে মোটিভেশনের ঘাটতি ছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছিল না। পাশাপাশি বাজেট সংকটের বিষয়টিও কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এবিষয়ে বিএনসিসির, রোভার স্কাউট এবং কমিউনিটি পুলিশিং-এর সদস্যরা জানান, তাদের অবহেলা সংক্রান্ত কোনো ঘাটতি ছিল না। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কখনোই তাদের কিছু বলেন নাই। সম্মানীর ঘাটতির কারণেই আপাতত বন্ধ করেছেন এমনটা জানিয়েছে।

অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন-যেখানে তারা কঠোর পরিশ্রম করে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছিলেন, সেখানে নতুন প্রশাসন কেন এই সামান্য সম্মানী বা ভর্তুকির ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে পারল না?

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া ইয়াসমিন জানান, "আমরা প্রতি দুই ঘণ্টা ডিউটি করে ৮০ টাকা করে সম্মানী পেতাম। টাকাটা আমাদের জন্য একটি সাপোর্ট ছিল। প্রশাসন এটি বন্ধ করে দেওয়ায় আমাদের চলাফেরা ও ব্যক্তিগত খরচ চালাতে কষ্ট হচ্ছে। রাজশাহী অঞ্চলে টিউশনি খুবই কম পাওয়া যায়। এছাড়া আমরা যখন গেটে ডিউটি করতাম, তখন বহিরাগতদের প্রবেশ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকত। ক্যাম্পাসের পরিবেশও অনেক স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু এখন কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বহিরাগতদের চলাচল অনেক বেড়ে গেছে, যা আমাদের নিরাপত্তার জন্য এক ধরনের হুমকি।"

এ বিষয়ে আরের শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে আসলে টিউশনি পাওয়া খুবই কঠিন। এই সামান্য ডিউটি করে হলেও আমরা পরিবার থেকে কিছুটা কম অর্থ নিয়ে চলতে পারতাম। কিন্তু প্রশাসন এটি বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা যারা নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান, তাদের জন্য আর্থিক চাপ অনেক বেড়ে গেছে।

এ বিষয়ে বিএনসিসির সেনা শাখার ক্যাডেট আন্ডার অফিসার তানভীর আহমেদ হামজা বলেন, বিগত প্রশাসন রাবিতে এই পার্ট-টাইম জব চালু করেছিল। কিন্তু নতুন প্রশাসন এসে এটি বন্ধ করে দেয়। পরে প্রক্টর আমাদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। সেখানে তিনি জানান, সম্মানীর বিষয়টি নিয়ে কিছু জটিলতা থাকায় আপাতত কর্মসূচিটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিমান শাখার আরেক অফিসার মো. নাসিম উদ্দিন জানান, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও কমিউনিটি পুলিশিং-এই তিন সংগঠনের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটগুলোতে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতেন। নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ করতে গিয়ে কোনো সংগঠন দায়িত্বে অবহেলা করেছে-এমন কোনো অভিযোগ প্রক্টর অফিস থেকে আমাদের কখনো জানানো হয়নি। সর্বশেষ প্রক্টর আমাদের সঙ্গে বৈঠকে বলেছিলেন, নতুন প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিলেই আবার ডিউটি শুরু হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্যদের মধ্যে আমি কিছুটা মোটিভেশনের ঘাটতি লক্ষ্য করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৯টি গেট রয়েছে। দেখা গেছে, তারা তিন-চারটি গেটে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করলেও বাকি গেটগুলোতে একইভাবে দায়িত্ব পালন করছে না। এ বিষয়টি আমরা তাদের জানিয়েছি। এছাড়া বাজেটেরও কিছুটা সংকট রয়েছে। বিগত প্রশাসন বিভিন্ন খাত থেকে এই খাতে বরাদ্দ দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো সে ধরনের কোনো বরাদ্দের বিষয়ে আমাদের জানানো হয়নি। তবে বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্যরা যদি নিয়মিত ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করেন, তাহলে এই সামান্য বাজেটের কারণে প্রশাসন কর্মসূচিটি আটকে রাখবে বলে আমি মনে করি না। এই কার্যক্রম চালু হলে প্রক্টরিয়াল বডির জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা অনেক সহজ হবে। আশা করছি, সামনের দিনগুলোতে কর্মসূচিটি আবার চালু হবে।

এ বিষয়ে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, গত বৈঠকে আমরা এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। এখানে বিএনসিসির সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দোষারোপ করছেন, আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডিও বিএনসিসির সদস্যদের দোষারোপ করছে। আমরা একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করে প্রশাসনের কাছে দিয়েছি। সেটি আগামী সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদন পেলে পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটগুলোতে চেকপোস্ট চালু করা হবে। ইতোমধ্যে চেকপোস্ট বন্ধ থাকায় গত কয়েক দিনে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা পরিস্থিতিরও অবনতি হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই পার্ট-টাইম কর্মসূচি বন্ধ হওয়ার পর একদিকে যেমন অনেক শিক্ষার্থী আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হারিয়েছেন, অন্যদিকে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের চলাচল বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, কর্মসূচিটি পুনরায় চালু করা হলে যেমন শিক্ষার্থীরা আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
France VS Spain
Scheduled
15 Jul, 01:00 AM
VS
World Cup