

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি বেতনভুক্ত এক গাড়িচালককে তার ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোর কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত ব্যক্তিগত গাড়িটির ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও সেটি চালানোর অভিযোগও উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে জনসেবামূলক ও জবাবদিহিমূলক আচরণ প্রত্যাশিত হলেও সরকারি জনবলকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ প্রশাসনিক নীতিমালার পরিপন্থী। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বোদা উপজেলা পরিষদে বর্তমানে তিনজন গাড়িচালক কর্মরত রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন রাজস্ব খাতের এবং দুজন আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত। এসব চালক উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সরকারি যানবাহন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঘ-১১-০০২১ নম্বরের লাল রঙের একটি মিতসুবিশি ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়মিত চালান বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের সরকারি চালক সোহেল। ওই গাড়িতে ইউএনওর স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে দেখা যায় বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
সম্প্রতি পঞ্চগড় পৌর শহরের চৌরঙ্গী মোড় এলাকার আল বাইক ফুডের সামনে ওই গাড়ির সঙ্গে চালক সোহেলকে দেখা যায়। সে সময় গাড়িতে ইউএনওর পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন স্বজন ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।
এ বিষয়ে চালক সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি জানান, ইউএনও বোদায় যোগদানের সময় থেকেই গাড়িটি তার কাছে রয়েছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, ব্যক্তিগত গাড়িটির ফিটনেস ২০২৩ সাল থেকে এবং ট্যাক্স টোকেন ২০২২ সাল থেকে নবায়ন করা হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নথিপত্রের ভিত্তিতে যাচাই প্রয়োজন।
এই বিষয়ে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আমাদের উপজেলা পরিষদে কামু নামে মাত্র একজন সরকারি চালক আছেন। এছাড়া অন্য কেউ সরকারি চালক নন। যে গাড়ির কথা বলা হচ্ছে, সেটিও ব্যক্তিগত গাড়ি নয়।
পরে আউটসোর্সিং এ নিয়োগকৃত চালককে দিয়ে ওই গাড়ি চালানোর যৌক্তিকতা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বাকি তথ্য বিআরটিএতে যোগাযোগ করে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর তিনি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করেননি।