

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁর মেয়ে মিষ্টি সিংহ রায়। বাংলাদেশের সীমান্তের কাছাকাছি বাড়ি হওয়ায় সহকর্মীরা তাকে মজা করে ‘বাংলাদেশের মেয়ে’ বলে ডাকেন। তবে এ নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই। বরং তিনি এটিকে সহকর্মীদের স্নেহমিশ্রিত খুনসুটি বলেই মনে করেন।
মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) কোলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন নবাগত এই অভিনেত্রী।
মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা মিষ্টি সিংহ রায় বর্তমানে কলকাতার ধারাবাহিক ‘ভালোবাসার রং রুট’-এ অভিনয় করছেন। দীর্ঘদিন বিভিন্ন কারণে বড় সুযোগ হাতছাড়া হলেও শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকটির মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে মিষ্টি বলেন, ‘আমার বাড়ি বনগাঁয়। সেখান থেকে বাংলাদেশের সীমান্ত খুব দূরে নয়। তাই মাঝেমধ্যে মজা করে ‘বাংলাদেশের মেয়ে’ বলে আমাকে খ্যাপানো হয়। আমাদের এলাকার কথার টানও আলাদা। স্থানীয় কিছু শব্দও মাঝেমধ্যে বলে ফেলি। সেগুলো নিয়েও মজা হয়। তবে এমন কোনো কথা কেউ বলেনি, যাতে আমার কষ্ট লাগে।’
তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। তবে বাবা-মা বিনোদন অঙ্গনকে ভালো চোখে দেখতেন না বলে প্রথমদিকে নিজের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করতে পারেননি।
মিষ্টি বলেন, ‘উচ্চমাধ্যমিকের পর সিদ্ধান্ত নিই, এবার নিজের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করব। তখন থেকেই মডেলিং শুরু করি। বাবা-মা প্রথমে রাজি ছিলেন না। তারা চাইতেন আমি পড়াশোনা করে চাকরি করি। অনেক বুঝিয়ে পরে তাদের সম্মতি পাই।’
এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত রিল ও ভিডিও প্রকাশ করে নিজের পরিচিতি বাড়ান তিনি। পরে কলকাতার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘টেন্ট ভিডিও’ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
তিনি বলেন, ‘আমি অডিশন দিই, পরে লুক টেস্ট হয়। তখনও চরিত্রটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতাম না। শুধু শুনেছিলাম, মেয়েটি বাস কিংবা অটো চালায়।’
লুক টেস্টের পর নির্বাচিত হওয়ার খবর পেয়ে বেশ নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন বলেও জানান মিষ্টি।
তার ভাষায়, “খবরটা শোনার পর ভয়েই হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। আমাদের প্রযোজক সুশান্ত দাস আমাকে সাহস দেন। তিনি বলেন, আমি পারব।”
মিষ্টি আরও জানান, টেলিভিশনের পর্দায় মেয়েকে দেখে তার মা আবেগে কেঁদে ফেলেন। একসময় মডেলিংয়ের কারণে প্রতিবেশীদের নানা মন্তব্য শুনতে হলেও এখন তার সাফল্যে পরিবার ও এলাকার মানুষ গর্বিত।