

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে নিজেদের সন্ত্রাসী সক্ষমতা যাচাইয়ের এই অপচেষ্টা ছাত্রদলের জন্যই বুমেরাং হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “গত ১৬ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন ও টেন্ডারবাজি চালিয়ে যে পতিত স্বৈরাচার আজ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে, তাদের করুণ পরিণতি থেকে শিক্ষা নিন। ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত এই নতুন বাংলাদেশে কোনো ধরনের দখলদারিত্ব, লেজুড়বৃত্তি ও মাস্তানির রাজনীতি দেশের ছাত্রসমাজ আর এক চুলও সহ্য করবে না।”
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত ৯টায় রাজধানীতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী, ছাত্রসংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধি, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদল ও যুবদলের হামলার প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
নূরুল ইসলাম বলেন, ‘ক্যাম্পাসের শত কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সম্পন্ন হলে শতভাগ স্বচ্ছতা থাকবে এবং কেউ চাঁদাবাজি করতে পারবে না। কিন্তু ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার চাঁদা ও অবৈধ কমিশনের ভাগ পাওয়ার লোভী মানসিকতা থেকেই ছাত্রদল সেনাবাহিনীর হাতে কাজ হস্তান্তরের বিরোধিতা করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও জকসু প্রতিনিধিদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। প্রতিটি ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি করতে না পেরে এই সন্ত্রাসীরা আজ উন্মাদ হয়ে গেছে।’
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “বিগত কিছুদিন ধরে দেশের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এক সুসংগঠিত উপায়ে ছাত্রসংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে একের পর এক সমন্বিত হামলা চালানো হচ্ছে। ভিত্তিহীন গুজবকে হাতিয়ার বানিয়ে খোদ থানার ভেতর ডাকসু নেতাদের ওপর বর্বরোচিত হামলার মাধ্যমে এই নোংরা রাজনীতির ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের পর জকসু নেতৃবৃন্দের ওপর এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হলো।
“এই ধারাবাহিক হামলার পেছনে সরকারের উচ্চমহল থেকে প্রত্যক্ষ উস্কানি দেওয়া হচ্ছে এবং কোনো একটি ঘটনারও আজ পর্যন্ত কোনো প্রকার সুষ্ঠু বিচার বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। এর মাধ্যমে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ক্যাম্পাসে একটি সুস্থ, গণতান্ত্রিক ও সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বিনির্মাণের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করা হচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতিবাদের ভাষা কেড়ে নিয়ে বর্তমান সরকার এক নতুন কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েমের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”
তিনি দাবি করেন, “বর্তমান সরকারের পাঁচ মাসের চরম জনদুর্ভোগ, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতেই দেশজুড়ে ছাত্রদল-যুবদলের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ক্যাম্পাসে একটি সুস্থ, গণতান্ত্রিক ও সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বিনির্মাণের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে পুনরায় ক্যাম্পাসে হল দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের দাস বানিয়ে নিজেদের হীন রাজনৈতিক চরিতার্থ করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ধারাবাহিকভাবে হামলা শুরু করেছে সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রদল।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে নিম্নোক্ত দাবি তুলে ধরা হয়:
১. সিসিটিভি ফুটেজ ও ছবির সাহায্যে জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফের চোয়াল ভেঙে দেওয়া জবি ছাত্রদলের মোস্তাফিজুর রহমান রুমি ও জাফর, ঢাকা কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসার ঘটনায় জড়িত যুবদল নেতা নয়ন এবং বেরোবিতে হামলাকারী বহিরাগত সকল সন্ত্রাসীকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
২.সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা এবং অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রক্টর অফিসের যেসকল কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন করেছেন, তাঁদের দ্রুত জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
১. জকসু নেতৃবৃন্দ, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং কর্তব্যরত আহত সাংবাদিকদের সুচিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারকে বহন করতে হবে।
২. ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার হলের নিয়ন্ত্রণ সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে তাদের আবাসিক নিরাপত্তা ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
৩. শিক্ষার্থীদের মূল দাবি অনুযায়ী জবি দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের শত কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ অবিলম্বে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে হবে।