

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের এক সাবেক কর্মীকে আটকের পর অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, পরিবারের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার পর ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে নেওয়া টাকা ফেরত দেন অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় এনসিপির সহযোগী সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রোববার (০২ আগস্ট) রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফতুল্লা মডেল থানার এএসআই আব্দুল হামিদ খান রোববার রাতে কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হক ডালিম চৌধুরীকে তার বাড়ি থেকে আটক করেন। তাকে আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে থানায় নেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, রাতে ডালিমের পরিবারের সদস্যরা থানায় গেলে এএসআই আব্দুল হামিদ খান তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রথমে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে দরকষাকষির একপর্যায়ে আড়াই লাখ টাকায় সমঝোতা হয়। শর্ত ছিল, ডালিম এক মাস বাড়িতে অবস্থান করবেন না।
পরিবারের সদস্যরা টাকা নিয়ে থানায় গেলে তাদের থানার ভেতরের একটি টয়লেটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে টাকা বুঝে নেওয়ার পর ডালিমকে হাজতখানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
পরদিন সকালে বিষয়টি জানতে পারেন জাতীয় ছাত্রশক্তির মহানগর আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম। তিনি পুলিশের কাছে প্রশ্ন তোলেন, যদি ডালিমকে ছেড়েই দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তার কাছ থেকে কেন টাকা নেওয়া হলো। তার প্রতিবাদের পর এএসআই আব্দুল হামিদ খান ডালিমের পরিবারের কাছে আড়াই লাখ টাকা ফেরত দেন বলে দাবি করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডালিমের পরিবারের এক সদস্য বলেন, “ডালিম একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। ছাত্রশক্তির নেতার হস্তক্ষেপের পরই পুলিশ টাকা ফেরত দিয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই আব্দুল হামিদ খান সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “পরে বলব।”
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, “এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।”