বুধবার
০৫ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০৫ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ভুল তো মানুষ করেই, আমি একটা ভুল কইরাইলছি’

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

‘ভুল করলেও করছি, না করলেও করছি। আমি, আফনেরার লগে থাহন লাগবো...! ভুল তো মানুষ করেই, আমি একটা ভুল কইরাইলছি।’ বিচার সালিসে কাঁদতে এমন কথা বলেই কাঁদছিলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া। কাঁদতে কাঁদতে এক পর্যায়ে তিনি মাফ চাওয়ার জন্য ফজলুর রহমানের পা জড়িয়ে ধরেন।

এর আগে নেত্রকোনা সদর উপজেলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে এক স্কুলছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগ উঠে।

পরে ঘটনার বিচার আদায়ে থানায় না গিয়ে বিএনপির স্থানীয় কার্যালয়ে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করা হয়। সালিসে অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ধার্যসহ এলাকাছাড়া করার সিদ্ধান্তে পৌঁছান স্থানীয় নেতাকর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই ধর্ষণের মতো ফৌজদারি অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিসে করাকে আইনবহির্ভূত বলে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জানা যায়, রিপন মিয়া দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের মোক্তাল হোসেনের ছেলে। তিনি ৫ ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়। বেশ কয়েক বছর ধরে সামাজিকমাধ্যমে রিপন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। ‘হাই আই এম রিপন ভিডিও’ ও ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’—এসব সংলাপের ভিডিও দিয়ে তিনি পরিচিতি পান। ২০১৯ সালে ‘রিপন মিয়া’ নামে ফেসবুকে একটি পেজ খোলেন। পেজটিতে বর্তমানে ফলোয়ারের সংখ্যা ১৯ লাখ।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, গত শনিবার রাত আটটার দিকে তাদের বাড়িতে যান রিপন। তখন ওই স্কুলছাত্রী বাড়ির উঠানে রান্না করছিল। তার বাবা স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকানে ও মা বাইরে কাজে ছিলেন। এ সুযোগে ওই ছাত্রীকে জোর করে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন রিপন। পরে মেয়েটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে রিপন পালিয়ে যান।

এসময় ভিডিও বানানোর কথা বলে রিপন আগে থেকেই কিশোরীটিকে উত্ত্যক্ত করতেন দাবি করে পরিবার জানায়, লোকলজ্জার ভয়ে পরিবারটি প্রথমে বিষয়টি প্রকাশ করেনি। পরে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে গতকাল সোমবার রাতে স্থানীয় একটি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সালিস বসে।

এদিকে সালিসে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে ওই বৈঠক হয়। সেখানে স্থানীয় বিএনপি–জামায়াতের নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে রিপন অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান। পরে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকাছাড়া করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, ‘মেয়েটি দরিদ্র পরিবারের। বিষয়টি জানার পর মেয়েটির পরিবার ও গ্রামের লোকজন আমাদের কাছে বিচার নিয়ে আসে। পরিবারের মামলা চালানোর সামর্থ্যও নেই। পরে আমরা এলাকাবাসী মিলে সালিসে বসেছিলাম। তারপর বলেছি আইনি পদক্ষেপ নিতে। সালিসের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এখন পুলিশ এসেছে আমাদের সঙ্গে কথা বলছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে জানিয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, অভিযোগ দেওয়ার জন্য মেয়েটিকে পরিবারের সঙ্গে থানায় পাঠানো হয়েছে। সালিসে থাকা দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযুক্ত রিপনকেও আটকের চেষ্টা চলছে।

এদিকে এ বিষয়ে রিপন মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন