

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রয়োজনীয় শয্যা না পেয়ে অপেক্ষমাণ অবস্থায় গত এক মাসে ২২৯ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৯১ জনই শিশু, যা পরিস্থিতির গভীরতা আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, বর্তমানে রামেকে মোট ৪০টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে শিশুদের জন্য ১২টি, বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য ১৬টি এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১২টি শয্যা নির্ধারিত। তবে সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে অন্য ইউনিট থেকে সমন্বয় করে শিশু আইসিইউতে অতিরিক্ত ৬টি শয্যা যুক্ত করা হয়েছে।
মার্চ মাসের তথ্য অনুযায়ী, শিশু আইসিইউতে ভর্তি ছিল ১১৯ জন এবং অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিল ৩৮৬ জন। এদের মধ্যে ৯১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বয়োজ্যেষ্ঠদের ক্ষেত্রে ভর্তি ছিলেন ১৪৩ জন, অপেক্ষমাণ ছিলেন ৩০২ জন -যাদের মধ্যে ৭০ জন মারা গেছেন। অন্যদিকে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ভর্তি ছিলেন ১৩৫ জন এবং অপেক্ষমাণ ৩১২ জনের মধ্যে ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের মধ্যে জটিলতা দ্রুত বাড়ছে। ফলে আইসিইউ শয্যার চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংকট মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১০০ শয্যার নতুন আইসিইউ স্থাপনের প্রস্তাব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত অক্সিজেন লাইন স্থাপনের কাজও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস। তিনি বলেন, শিশু আইসিইউ শয্যা ১২ থেকে বাড়িয়ে ১৮টি করা হয়েছে, যার মধ্যে ১২টি শুধুমাত্র হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩ জনে। বর্তমানে নতুন ভর্তি হয়েছে ১৮ জন এবং চিকিৎসাধীন রয়েছে ১২৩ জন শিশু।
আইসিইউ সংকটের করুণ চিত্র উঠে এসেছে রোগীর স্বজনদের বক্তব্যে। কুষ্টিয়ার বাসিন্দা রিফাতের পাঁচ মাস বয়সী মেয়ে আইসিইউর অপেক্ষমাণ তালিকায় ৩২ নম্বরে থেকে চিকিৎসা না পেয়েই মারা যায়। একইভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৯ মাস বয়সী এক শিশু ৩১ নম্বরে এবং আরেক শিশু হুমায়রা ৩০ নম্বরে থেকে মৃত্যুবরণ করে।
১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত রামেক হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ২০১৩ সালে ১ হাজার ২০০-তে উন্নীত করা হলেও বাস্তবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। এতে চিকিৎসা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, রাজশাহী বিভাগের বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকেও রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। এ অঞ্চলে শিশু আইসিইউ সুবিধা সীমিত হওয়ায় প্রতিদিন গড়ে ৩০টির বেশি শয্যার চাহিদা থাকে। তবে মার্চ মাসে হাম ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এই চাহিদা বেড়ে দৈনিক প্রায় ৫০টিতে পৌঁছেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত আইসিইউ শয্যা বৃদ্ধি এবং বিকেন্দ্রীকৃত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে না তুললে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
মন্তব্য করুন