রবিবার
০৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্কুলছাত্রীকে লাথি: অভিযুক্ত কিশোরকে আটকের পর পরিবারের জিম্মায়

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম
এনপিবি কোলাজ
expand
এনপিবি কোলাজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও লাথি মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ১১ বছর বয়সী এক কিশোরকে আইনি প্রক্রিয়ায় পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে আটক করে পুলিশ। তবে বয়স বিবেচনায় তাকে হেফাজতে না রেখে শিশু আইন অনুযায়ী সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে পরিবারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, অভিযুক্ত কিশোর সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর ইউনিয়নের একটি ভাড়াবাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকেন। তার বাবা পেশায় রিকশাচালক এবং মা পোশাক কারখানায় চাকরি করেন।

সম্প্রতি কাঁচপুর সেতুর নিচে শীতলক্ষ্যা নদীর ওয়াকওয়ে দুই স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও ঘটনাটি মাসখানেক আগে ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তবে, সম্প্রতি ভিডিও ভাইরাল হলে এই ঘটনায় একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে শিশুটি তার গ্রামের বাড়ি রংপুরে চলে যায়।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ২০১৩ সালের শিশু আইন অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা বা ডাইভারশনের মাধ্যমে ওই শিশুকে ছয় মাসের জন্য অভিভাবকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই ছয় মাসে ওই শিশুকে কাউন্সেলিং করা হবে। প্রতি মাসে তার বিষয়ে পুলিশকে প্রতিবেদন দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে সে এ ধরনের কাজে জড়াবে না এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে।

পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, অভিযুক্ত শিশুটি চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিল।

অন্যদিকে, ভুক্তভোগী দুই স্কুলছাত্রী কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তাদের দু’জনকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করার অভিযোগ করেন তার পরিবারের সদস্যরা।

ভুক্তভোগীর এক ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘ওই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আমার মেয়েকে স্কুল থেকে টিসি (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) দিয়েছে। আমি গরীব মানুষ। এখন আরেক স্কুলে কেমনে ভর্তি করামু!’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিন সরকারও শুক্রবার গণমাধ্যমে বহিষ্কারের বিষয়টি স্বীকার করলেও এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘ওই দুই ছাত্রীকে স্কুলের সময় বাইরে থাকার একাধিক অভিযোগ আগেও ছিল। ভিডিও’র পর তাদের সর্তক করে বলা হয়েছে- আগামীতে এমন করলে টিসি দেওয়া হবে। টিসি দেওয়া হয়নি।’

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন