

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কিশোরগঞ্জে দুই যুগ আগে সংঘটিত ডাকাতি ও জোড়া হত্যার মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালতে নুর মোহাম্মদের পক্ষে আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর রহমান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বয়স ও অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিজ খরচে পরিবহনের মাধ্যমে কারাগারে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন নুর মোহাম্মদ। তবে আদালত সেই আবেদনও গ্রহণ করেননি।
আদালতে নুর মোহাম্মদের আইনজীবী বলেন, তার মক্কেলের বয়স ১০৪ বছর। তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না এবং নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করতে হয়। বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত এই ব্যক্তি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ কারণে আপিলের শর্তে তার জামিন চাওয়া হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড় বাজার এলাকায় ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় মোশাররফ হোসেন ও আবদুল কবির নামে দুজনকে হত্যা করা হয়। ডাকাতেরা দোকানের সিন্দুক থেকে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর দোকানের মালিক ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তৎকালীন কিশোরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন।
পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলাটি পরবর্তী সময়ে বিচারের জন্য কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। বিচার চলাকালে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর রায় দেন চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।
রায়ের সময় হাবিবুর রহমান হাবিব, শাহ আলম, মইন উদ্দিন ওরফে মঈন উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, আলম, দিলু ওরফে দেলোয়ার হোসেন, শুকুর আলী ও আলতু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
অন্যদিকে জসিম, সিদ্দিক, আমির চান, কবির ও বজলুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ ছিল। বিচার চলাকালীন হারিছ মিয়া নামে এক আসামির মৃত্যু হয়।
পরবর্তী সময়ে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট উচ্চ আদালত আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। অন্য আসামিদের সাজাও বিভিন্ন মেয়াদে পরিবর্তন করা হয়। ওই পর্যায়ে নুর মোহাম্মদের সাজা কমে ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, নুর মোহাম্মদ এ মামলায় হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। পরে আদালত থেকে জামিন নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এমনকি মামলার রায় ঘোষণার সময়ও তিনি পলাতক ছিলেন।
দীর্ঘ সময় পর মঙ্গলবার তিনি আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। তবে তার বয়স ও অসুস্থতার বিষয়টি তুলে ধরে জামিন চাওয়া হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


