

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইতালির ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ও তার পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, লজ্জা ও বিচার দাবি করেছেন অভিনেত্রী সাফা কবির।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সাফা কবির লেখেন, ‘আমি ভীষণভাবে মর্মাহত, ক্ষুব্ধ এবং লজ্জিত। আজমেরী হক বাঁধন আপু ও তার পরিবারকে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো শিল্পীরই এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া উচিত নয়।
একজন শিল্পী যখন দেশের বাইরে একটি চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের চলচ্চিত্র ও নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যান, তখন তার প্রাপ্য হওয়া উচিত সম্মান ও নিরাপত্তা, অপমান, হয়রানি বা আতঙ্ক নয়।’
গত সোমবার রাতে ইতালির ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় বাঁধন, তার ভাই ও শিশু সন্তান হামলার শিকার হন। ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নিজেদের ‘ভেনিস ছাত্রলীগ’ ও ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ পরিচয় দিয়ে কয়েকজন লোক বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে গালাগাল ও হেনস্তা করছে।
পরবর্তীতে ফেসবুক লাইভে এসে বাঁধন জানান, তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে, গায়ে পানি ছুড়ে মারা হয়েছে এবং মারধর করে তার মোবাইল ফোন ফেলে দেওয়া হয়েছে।
মূলত ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থাকার কারণেই তার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় স্থানীয় ভেনিস থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে সাফা কবির শিল্পীদের বারবার রাজনৈতিক টানাপোড়েনে টেনে আনার সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। লেখেন, ‘দুঃখজনকভাবে, আমাদের দেশের শিল্পীদের বারবার কোনো না কোনোভাবে রাজনীতির জঘন্য টানাপোড়েনের মধ্যে টেনে আনা হয়। শিল্পী সত্য, ন্যায় ও মানুষের কথা বলবেন এটাই তো শিল্পীর স্বাধীনতা। কিন্তু সেই কণ্ঠের জন্য কেন তাকে বারবার মূল্য দিতে হবে?’
‘আরও কষ্ট হয় যখন কিছু মানুষের আচরণের কারণে পুরো জাতিকে বিচার করা হয়, আমাদের হিংস্র, উগ্র কিংবা অসভ্য হিসেবে পরিচিত হতে হয়। কিছু মানুষের কাজের দায় কেন একটি পুরো দেশের মানুষ বহন করবে? কেন সাধারণ বাংলাদেশিদের তার মূল্য দিতে হবে, দেশের বাইরে সম্মান থেকে শুরু করে ভিসা কিংবা চলাচলের ক্ষেত্রেও?’
ঘটনাটি সাময়িক আলোচনার পর যেন ঢাকা পড়ে না যায় সে বিষয়ে সোচ্চার হয়ে তিনি যোগ করেন,
‘বাঁধন আপুর সঙ্গে যা ঘটেছে, তাতে আমি গভীরভাবে ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ। আমি চাই, এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক এবং তিনি ন্যায়বিচার পান। তবে একই সঙ্গে ভয়ও হয় এই ঘটনাটিও কি কয়েক দিনের খবর হয়ে থাকবে? কিছু আলোচনা, কিছু প্রতিবাদ, কিছু সংবাদ তারপর নতুন কোনো ঘটনার নিচে চাপা পড়ে যাবে? আমরা যেন ভুলে না যাই।
কারণ একজন শিল্পীর নিরাপত্তা, সম্মান এবং স্বাধীনতার প্রশ্ন শুধু একজন শিল্পীর নয়- এটি আমাদের সমাজ, আমাদের দেশ এবং আমাদের পরিচয়েরও প্রশ্ন। একজন শিল্পীর কণ্ঠ, সম্মান ও নিরাপত্তা কখনোই রাজনীতির মূল্য হওয়া উচিত নয়।’
এই ঘটনাটি সাময়িক আলোচনার পর যেন চাপা পড়ে না যায়, সেই বিষয়েও তিনি সবাইকে সোচ্চার থাকার আকুল আহ্বান জানান।


