

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মিরচাঁন সরদার (৩৬) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। সংঘর্ষের এ ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে এ সংঘাতের ঘটনা ঘটে। নিহত মিরচাঁন সরদার ওই গ্রামের মৃত লোকমান সরদারের ছেলে।
স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, কোটাকোল ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি আজমল মুন্সি ও বর্তমান ইউপি সদস্য কালাম মুন্সি সমর্থিত গ্রুপের সঙ্গে কোটাকোল ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল মোল্যা এবং হিরাঙ্গীর মোল্যা গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক বিরোধ চলছিল।
আজমল মুন্সি গ্রুপের ইউপি সদস্য কালাম মুন্সি অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মিরচাঁন সরদার তার বাড়ির দিকে আসার সময় প্রতিপক্ষের সাবেক মেম্বার শহিদুল মোল্যা ও হিরাঙ্গীর মোল্যার নেতৃত্বে মিল্লাত, লিয়াকত, জসিম ও রবিউলসহ ৫০-৬০ জনের একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। তারা মিরচাঁনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মাদারীপুরের পাঁচচর এলাকায় তার মৃত্যু হয়।
একই ঘটনায় সালাম মুন্সি নামে অপর এক যুবককে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষে খাজা সরদার, সিয়ামিন সরদার ও সারফিনা বেগমসহ উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হন। তারা লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে সাবেক ইউপি সদস্য শহীদুল মোল্যার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


