

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শীর্ষ কূটনৈতিক ও নীতিনির্ধারক দলকে তেহরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, শনিবার (১১ জুলাই) ওমানের রাজধানী মাসকটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। চলমান সংঘাতের অবসান এবং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে আনার পথ খুঁজতেই এই আলোচনা আয়োজন করা হচ্ছে।
সূত্রের বরাত দিয়ে সিবিএস জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। আলোচনায় অংশ নেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওমানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে ওমানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
তবে এর মধ্যেও যুদ্ধবিরতি নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন ট্রাম্প। শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরান আলোচনায় ফিরতে চেয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাতে সম্মতি জানিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আগের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।
এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, গত ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি চুক্তি আর কার্যকর নেই। ওই চুক্তির মাধ্যমে কয়েক সপ্তাহের জন্য বড় ধরনের সংঘাত থেমেছিল, কিন্তু পরবর্তী সময়ে পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
চলতি সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক দফা হামলার ঘটনা ঘটে। ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ওঠে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বিমান হামলা চালায়। পরে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হয়। পরে জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। তবে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তথ্যসূত্র: তাস
