

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


স্পেনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে হৃদয়বিদারক হারে শেষ হলো বেলজিয়ামের এবারের বিশ্বকাপ অভিযান। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচে ২-১ গোলে হারে দলটি।
এদিন প্রথমার্ধের ৩০ মিনিটে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে বেলজিয়াম। এর ১০ মিনিট পর সমতায়ও ফেরে দলটি। এরপর একদিকে যেমন এগিয়ে যাওয়ার প্রাণপন চেষ্টা চালিয়েছে লুকাকুরা। অন্যদিকে গোলবার আগলে ধরে রেখেছিলেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়া। লামিন ইয়ামাল-ওইয়ারজাবালের একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করেছিলেন তিনি।
ম্যাচের ৭১ মিনিট। স্কোর লাইন তখনও ১-১ গোলের সমতায়। ঠিক এমন সময় ঘটে বিপত্তি। আচমকা ঊরুর চোটে পড়ে মাঠে লুটিয়ে পড়লেন কোর্তোয়া। কিছুক্ষণ চিকিৎসা নেওয়ার পর উঠে দাঁড়ালে ধারণা করা হচ্ছিল, খেলা চালিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু পারলেন না।
এরপর চোখের পানি নিয়ে মাঠ ছাড়েন কোর্তোয়া। তার বদলে মাঠে নামেন সেনে লেমেন্স। তবে শেষ পর্যন্ত বদলি গোলরক্ষককে হার মানতে হয় স্পেনের আক্রমণের কাছে। ৮৮ মিনিটে মিকেল মেরিনোর গোলে জয় নিশ্চিত করে স্পেন, জায়গা করে নেয় সেমিফাইনালে। শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স।
ম্যাচ শেষে নিজের চোট নিয়ে কোর্তোয়া বলেন, গোল কিক নেওয়ার সময়ই প্রথম ব্যথা অনুভব করেন তিনি। দলের স্বার্থে মাঠে থাকতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত কোচের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন এই গোলরক্ষক।
কোর্তোয়া বলেন, ‘আমি একটি গোল কিক নেওয়ার পর উরুতে ব্যথা অনুভব করি। কোচিং স্টাফকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। গোলপোস্টে দাঁড়িয়ে থাকতে সমস্যা হচ্ছিল না, তবে লম্বা কিক নিতে ব্যথা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত কোচ আমাকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দলের স্বার্থই সবার আগে।’
চোট পাওয়ার আগে অবশ্য দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান কোর্তোয়া। স্পেনের একের পর এক আক্রমণ ঠেকাতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন তিনি। ৩০ মিনিটে ফাবিয়ান রুইসের শটের দিক পরিবর্তন হয়ে বল জালে ঢুকে গেলে সেটিই ছিল তার হজম করা একমাত্র গোল।
গোলরক্ষণের পাশাপাশি বল নিয়েও কার্যকর ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা। স্পেনের চাপের মধ্যেও ২৯টি পাসের মধ্যে ২২টি সফলভাবে সম্পন্ন করেন তিনি।
চলতি বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন ৩৪ বছর বয়সী কোর্তোয়া। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপে তার ২১তম উপস্থিতি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা গোলরক্ষকদের তালিকায় এককভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন তিনি। তার সামনে এখন শুধু জার্মানির ম্যানুয়েল নয়ার, যার বিশ্বকাপ ম্যাচসংখ্যা ২৩।

