শনিবার
১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আপাতত হামলা থেকে সরে দাঁড়াল যুক্তরাষ্ট্র, আলোচনার চেষ্টা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৮ এএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতা এবং তেহরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ও কূটনৈতিক—দুই ধরনের প্রস্তুতিই ধরে রেখেছে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রস্তুত থাকলেও আপাতত অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে আলোচনাকে। প্রয়োজন হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা বজায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে আরব সাগরে অবস্থানরত মার্কিন রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে যুদ্ধবিমানগুলোকে অভিযানের জন্য প্রস্তুত করা হয়। পাইলটদের বিশেষ মহড়া পরিচালনার পাশাপাশি নাবিকদেরও উচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা চলায় বৃহস্পতিবার রাতে ইরানে নতুন কোনো হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে পারমাণবিক ইস্যুতে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। ট্রাম্প প্রশাসন এখনো আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি বলেও মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

কাতার, পাকিস্তানসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ গত বুধবার উভয় পক্ষের সঙ্গে পৃথকভাবে যোগাযোগ করে। তাদের লক্ষ্য ছিল সংঘাত প্রশমিত করে আবারও আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা। মধ্যস্থতা-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের ভাষ্য, প্রথম ধাপে উত্তেজনা কমানো এবং পরে পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে।

যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন। তবে মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক পথও এখনো খোলা রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত রাখা এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করাকেও ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত ৮ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। মার্কিন বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাব হিসেবে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Norway VS England
Scheduled
12 Jul, 03:00 AM
VS
World Cup