

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বকাপে রেফারিং ও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) নিয়ে একের পর এক বিতর্কের পর নকআউট পর্বে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনেছে ফিফা। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে প্রতিটি স্টেডিয়ামে মূল ভিএআরের পাশাপাশি একজন রিজার্ভ ভিএআর কর্মকর্তাকে রাখা হচ্ছে, যাতে প্রযুক্তিগত কোনো সমস্যা দেখা দিলেও ম্যাচ পরিচালনায় বিঘ্ন না ঘটে।
নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর হয় ফ্রান্স ও মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ থেকে। ফিফা জানিয়েছে, মূল ভিএআর কার্যক্রম আগের মতোই যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাসে অবস্থিত আন্তর্জাতিক সম্প্রচার কেন্দ্রের (আইবিসি) কেন্দ্রীয় ভিএআর হাব থেকে পরিচালিত হবে। তবে হাব ও স্টেডিয়ামের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে মাঠে অবস্থান করা রিজার্ভ ভিএআর কর্মকর্তা সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব নেবেন।
শেষ ষোলোর কয়েকটি ম্যাচের পর ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও মিশরের ম্যাচে কয়েকটি সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন ওঠে। ম্যাচ শেষে মিশরের কোচ হোসাম হাসান অভিযোগ করেন, রেফারিংয়ে তাদের প্রতি সুবিচার করা হয়নি। একই ধরনের অসন্তোষ প্রকাশ করেন দলের উইঙ্গার মোস্তফা জিকো।
রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন ওঠে ইংল্যান্ডের শিবির থেকেও। সহ-আয়োজক মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে জ্যারেল কোয়ানসাহর লাল কার্ডের সিদ্ধান্তের পর ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল ম্যাচ পরিচালনায় ধারাবাহিকতার অভাবের কথা তুলে ধরেন।
তবে এসব সমালোচনা নাকচ করে দিয়েছেন ফিফার রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা। তার ভাষ্য, ম্যাচ কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেন এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রভাব তাদের ওপর থাকে না। তিনি আরও বলেন, ভিত্তিহীন অভিযোগ রেফারিদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের জন্যও অপ্রয়োজনীয় চাপ ও ঝুঁকি তৈরি করে।
এদিকে শুধু ভিএআরের কাঠামোতেই নয়, প্রযুক্তির ব্যবহারেও পরিবর্তন এনেছে ফিফা। এখন থেকে গোল, পেনাল্টি ও সরাসরি লাল কার্ডের পাশাপাশি ভুলভাবে দেওয়া কর্নার বা ফ্রি-কিক, দ্বিতীয় হলুদ কার্ড থেকে লাল কার্ডের পরিস্থিতি, ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়া এবং বল পুনরায় খেলায় ফেরার আগে আক্রমণভাগের সম্ভাব্য ফাউলের ঘটনাও ভিএআরের আওতায় পর্যালোচনা করা যাবে।
চলতি বিশ্বকাপে খেলার গতি বাড়াতে আরও কয়েকটি নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। বদলি হওয়া খেলোয়াড়কে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠ ছাড়তে হবে। নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলে বদলি খেলোয়াড় পরবর্তী খেলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত মাঠে নামতে পারবেন না এবং ওই সময় দলকে একজন কম নিয়ে খেলতে হবে।
এ ছাড়া থ্রো-ইন ও গোল কিক নিতে অযথা দেরি করলে প্রতিপক্ষ সুবিধা পাবে। মাঠের বাইরে চিকিৎসা নেওয়া খেলোয়াড়কে অন্তত এক মিনিট বাইরে থাকতে হবে, ফলে ওই সময় তার দল একজন কম নিয়ে খেলবে।
শৃঙ্খলা রক্ষায়ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফিফা। সংঘর্ষ বা বিতর্কের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ঢেকে কথা বলা কিংবা প্রতিবাদ জানিয়ে মাঠ ত্যাগ করলে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হবে। কোনো দল ম্যাচ পরিত্যাগ করলে তাদের পরাজিত হিসেবে গণ্য করা হবে।
নকআউট পর্বে প্রতিটি সিদ্ধান্তের গুরুত্ব বিবেচনায় রেফারিং নিয়ে বিতর্ক কমানো এবং প্রযুক্তিগত নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতেই এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে মনে করছে ফুটবল সংশ্লিষ্টরা।

