

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে প্রায় ৩০০ কোটি রুপির সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে উঠে এসেছে একটি হাতে লেখা গোপন ডায়েরি। দুর্নীতি দমন ব্যুরো (এসিবি) বলছে, ওই ডায়েরিতে সম্পদ, বিনিয়োগ, দেনা-পাওনা এবং কথিত বেনামি ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য লেখা ছিল, যা তদন্তে নতুন মোড় এনে দিয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া কর্মকর্তা হলেন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) সংকিরেড্ডি ভীম রেড্ডি। তিনি হায়দরাবাদের পুলিশ কম্পিউটার সার্ভিসেসে (পিসিএস) কর্মরত ছিলেন।
সোমবার (০৬ জুলাই) সন্ধ্যায় হায়দরাবাদের ইব্রাহিমবাগ এলাকার ভেসেলা মেডোজে অবস্থিত তার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে এসিবির বিশেষ আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। খবর এনডিটিভির।
এসিবির দাবি, চাকরিকালীন পরিচিত আয়ের তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন ভীম রেড্ডি। দুর্নীতি ও অবৈধ উপায়ে এসব সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
এর আগে ২ জুলাই তেলেঙ্গানা ও কর্ণাটকের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালায় এসিবি। ডিএসপির বাসাসহ তার স্বজন, বন্ধু, কথিত বেনামি মালিক এবং সহযোগীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোট ১৬টি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়।
তদন্তে হায়দরাবাদ, সাঙ্গারেড্ডি, বিকারাবাদ, তেল্লাপুর, গাচিবাউলি, মানিকোন্ডা, পাতানচেরু, নাগোল এবং কর্ণাটকের বিভিন্ন এলাকায় বিলাসবহুল ভিলা, একাধিক ফ্ল্যাট, বাণিজ্যিক ভবনে অংশীদারত্ব, খোলা প্লট, কৃষিজমি ও বিভিন্ন বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এসব সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ৩০০ কোটি রুপি।
তল্লাশির সময় ভীম রেড্ডির বাসা থেকে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার রুপি নগদ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তার এক কথিত বেনামি সহযোগীর বাড়ি থেকে আরও প্রায় ৪০ লাখ রুপি জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে প্রায় ২ কেজি স্বর্ণালংকার, ২০ কেজি রুপার সামগ্রী এবং প্রায় ১৯ লাখ ৯১ হাজার রুপির ব্যাংক আমানতের তথ্যও মিলেছে।
এসিবির ভাষ্য, চারধাম তীর্থযাত্রায় যাওয়ার আগে ভীম রেড্ডি নিজের সম্পদ, বিনিয়োগ, দায়-দেনা এবং কথিত বেনামি ব্যক্তিদের নাম ওই হাতে লেখা ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করেছিলেন। পরে ডায়েরিটির স্ক্যান কপি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তার দুই ছেলের কাছেও পাঠিয়েছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, ডায়েরিটি মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলামত। এর সূত্র ধরেই একাধিক সম্পত্তি, আর্থিক লেনদেন এবং কথিত বেনামি বিনিয়োগের তথ্য শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সম্পদ ও অর্থের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত এখনও চলমান।