

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে সব গ্রেডে সমান হারে এই সুবিধা দেওয়া হবে না; বরং নিম্ন গ্রেডের কর্মীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে তুলনামূলক বেশি বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সোমবার (০৬ জুলাই) জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা, অবসর সুবিধা ও পেনশন কাঠামো নিয়েও আলোচনা করা হয়।
কমিটির এক সদস্য জানান, সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা নতুনভাবে সাজানোর প্রস্তাব নিয়েও কথা হয়েছে। কয়েকটি ভাতা একীভূত করা এবং বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে নতুন সুবিধা যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন কাঠামোয় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের জন্য তুলনামূলক বেশি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ আসতে পারে। অন্যদিকে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন বাড়লেও বৃদ্ধির হার কিছুটা কম হতে পারে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের ধারণা অনুযায়ী, প্রথম থেকে নবম গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরির কাজ এখনো চলমান। সূত্র জানায়, আগামী সপ্তাহে কমিটির আরও একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সচিব কমিটির সুপারিশ মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভা প্রয়োজন মনে করলে এতে পরিবর্তন, সংযোজন বা সংশোধন করতে পারবে। অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন কাঠামো কার্যকর হবে।
আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পর নতুন বেতন কাঠামো আসায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে শুধু মূল বেতন নয়, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাতা, পেনশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বাস্তব সংস্কারও প্রয়োজন।
সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাজার পরিস্থিতি ও দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। কারণ মূল্যস্ফীতির প্রভাব শুধু সরকারি কর্মচারী নয়, সব শ্রেণির মানুষের ওপর পড়ে।
সর্বশেষ ২০১৫ সালে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধি পেলেও নতুন কোনো পে স্কেল চালু হয়নি। ২০২৫ সালে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন এর আগে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল।
ওই সুপারিশে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ধাপ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ও যাতায়াত ভাতায়ও পরিবর্তনের প্রস্তাব ছিল।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটি যুক্ত করলে এ খাতে মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।
তথ্যসূত্র: সমকাল
