সোমবার
০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৪০ মিনিট পৃথিবীর সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে নভোচারীরা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের অপেক্ষায় রয়েছেন আর্টেমিস মিশনের চার নভোচারী। পৃথিবী থেকে ক্রমেই দূরে সরে গেলেও এতক্ষণ পর্যন্ত টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত মিশন কন্ট্রোলের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তবে এবার সেই যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হতে যাচ্ছে।

স্থানীয় বিএসটি সময় সোমবার (৬ এপ্রিল) রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে আর্টেমিস মহাকাশযানটি চাঁদের উল্টো পিঠে প্রবেশ করলে বিশাল এই উপগ্রহটি পৃথিবী ও মহাকাশযানের মাঝখানে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। ফলে রেডিও বা লেজার—কোনো মাধ্যমেই তখন আর সংকেত আদান-প্রদান করা সম্ভব হবে না। এতে গভীর মহাকাশের নিস্তব্ধতায় প্রায় ৪০ মিনিট সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকবেন চার নভোচারী। এমন তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

আর্টেমিস মিশনের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এই সময়টিকে কেবল প্রযুক্তিগত বিচ্ছিন্নতা হিসেবে দেখছেন না। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিশ্ববাসীকে এ সময় একসঙ্গে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, যখন আমরা চাঁদের আড়ালে গিয়ে পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ হারাব, তখন সবাই আমাদের জন্য প্রার্থনা করবেন এবং ইতিবাচক চিন্তা পাঠাবেন। আমরা যেন আবার নিরাপদে পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারি—এই আশা রাখবেন।

ফিরে দেখা ইতিহাস: অ্যাপোলো ১১-র সেই নিঃসঙ্গতা

৫০ বছর আগে অ্যাপোলো মিশনের নভোচারীরাও একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন। ১৯৬৯ সালে যখন নীল আর্মস্ট্রং ও বাজ অলড্রিন চাঁদের মাটিতে পা রাখছিলেন, তখন মাইকেল কলিন্স একাকী কমান্ড মডিউল নিয়ে চাঁদের কক্ষপথে ঘুরছিলেন।

চাঁদের উল্টো পিঠে থাকাকালীন কলিন্সও ৪৮ মিনিট পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। তার আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছিলেন, সেই সময় তিনি নিজেকে পৃথিবীর সমস্ত জীবন থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন অনুভব করেছিলেন। তবে তিনি ভীত ছিলেন না; বরং মিশন কন্ট্রোলের অবিরাম নির্দেশনা থেকে দূরে সেই নীরবতাকে তিনি 'প্রশান্তির' বলে অভিহিত করেছিলেন।

আর্টেমিস মিশনের এই ৪০ মিনিট কেবল একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে মানুষের সাহস ও একাকীত্বের এক নতুন অধ্যায়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন