বৃহস্পতিবার
১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পাবে বাংলাদেশসহ ৬ দেশের জাহাজ

প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ।। ফাইল ছবি
expand
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ।। ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝেও বাংলাদেশের জন্য হরমুজ প্রণালিতে স্বস্তির খবর এসেছে। ইরান জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ কয়েকটি ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশের জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দেয়া হবে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খলে কিছুটা স্বস্তি আসার সম্ভাবনা আছে।

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা পড়েছে। তবে পুরো প্রণালি বন্ধ না করে নির্দিষ্ট কিছু দেশকে পারাপার করার সুযোগ দিচ্ছে ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, পশ্চিমা মিডিয়ার কিছু দাবির বিপরীতে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তিনি বলেন, ‘অনেক জাহাজ মালিক বা দেশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে যাতে তারা নিরাপদে প্রণালি পার হতে পারে। যেসব দেশকে আমরা বন্ধু মনে করি বা বিশেষ কারণে অনুমতি দিচ্ছি, তাদের জন্য আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করছে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘সংবাদে দেখেছেন—চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারত। সম্প্রতি ভারতের দুটি জাহাজ পার হয়েছে। আরও কিছু দেশ, এমনকি বাংলাদেশও যারা আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেছে, তাদের জন্যও এটি চালু থাকবে। ভবিষ্যতেও যুদ্ধের পরেও এটি চলবে।’

তবে আরাগচি স্পষ্ট করেন, যেসব দেশকে ইরান প্রতিপক্ষ হিসেবে মনে করে বা চলমান সংঘাতে জড়িত, তাদের জাহাজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে না।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন যুদ্ধের মধ্যে আছি। পুরো অঞ্চলই যুদ্ধক্ষেত্র। আমাদের শত্রু এবং তাদের মিত্রদের জন্য এটি বন্ধ থাকবে, অন্যদের জন্য খোলা থাকবে।’

ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। ফলে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ কার্যত ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, এবং বিমান সংস্থা থেকে সুপারমার্কেট—সব খাতেই ব্যয় বেড়ে, চাহিদা কমে ও সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তেহরান পাল্টা আঘাত হানায় পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়ে গেছে এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত হয়েছে। এর ফলে জ্বালানি বহনকারী জাহাজ চলাচল ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

শিপিং তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম লয়েডস লিস্ট অনুযায়ী, সাধারণত দৈনিক প্রণালি দিয়ে প্রায় ১২০টি জাহাজ চলাচল করে। কিন্তু ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত মাত্র ১৫৫টি জাহাজ পার হয়েছে। বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এটি অন্য সময়ের তুলনায় ৯৫ শতাংশ কম।

এর মধ্যে ৯৯টি ছিল তেল ও গ্যাস বহনকারী জাহাজ, যাদের বেশিরভাগ পূর্ব দিকে গেছে। এবং ২৫ মার্চ বুধবার শুধুমাত্র দুটি জাহাজ পশ্চিমমুখী প্রণালি অতিক্রম করেছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
France VS England
Scheduled
19 Jul, 03:00 AM
VS
World Cup