

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার নতুন বারুদের গন্ধ! ইরানের এক নিরাপত্তা বিশ্লেষক দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে কোনো “ভুল পদক্ষেপ” নিলে ইরান বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূল দখলের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোর্তেজা সিমিয়ারি বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী প্রয়োজনে সরাসরি পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
ক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি অঞ্চলে কোনো ভুল করে, তাহলে ইরান দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “আমিরাত ও বাহরাইনের উপকূলে প্রবেশ করা আমাদের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে এবং এতে আঞ্চলিক পরিস্থিতি মৌলিকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে।”
সিমিয়ারির এই মন্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন কয়েকদিন আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন জায়েদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইরানের হামলার নিন্দা করেন। তিনি বলেন, আমিরাত কখনোই “সন্ত্রাসীদের ব্ল্যাকমেইলের কাছে নতি স্বীকার করবে না।”
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই বক্তব্যগুলো আঞ্চলিক রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
মজার ব্যাপার হলো, এই কূটনৈতিক লড়াইয়ের নেপথ্যে রয়েছে ওয়াশিংটনের সাথে আমিরাতের ক্রমবর্ধমান মাখামাখি। আমিরাতের রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ জানিয়েছেন, ইরানের ‘নগ্ন আগ্রাসনের’ কারণেই তারা ওয়াশিংটনের সাথে নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করছে।
তবে এই নীতির সমালোচনা করে সাবেক ফরাসি রাষ্ট্রদূত জেরার্ড আরাউড মন্তব্য করেছেন, এটি আসলে এমন একটি দেশের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানো, যারা আমিরাতের স্বার্থের তোয়াক্কা না করেই তাদের এক ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মাঠের পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরান কেবল মার্কিন ঘাঁটি নয়, বরং প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত একাই ৩৩৮টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ১,৭৪০টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
এক সময় সৌদি আরব এবং আমিরাত যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও, বর্তমানে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধের সুরেই সুর মেলাচ্ছে। রিয়াদ ইতিমধ্যেই তায়েফের কিং ফাহদ বিমানঘাঁটি মার্কিনীদের জন্য খুলে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আর সংযুক্ত আরব আমিরাত তো এক ধাপ এগিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে জানিয়েছে, তারা আগামী ৯ মাস পর্যন্ত এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত এবং যুদ্ধ থামানোর জন্য ওয়াশিংটনকে কোনো চাপই দেবে না।
সব মিলিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাতাস এখন কেবল তপ্তই নয়, বরং এক ভয়াবহ আঞ্চলিক পরিবর্তনের অপেক্ষায় স্তম্ভিত হয়ে আছে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
মন্তব্য করুন
