

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু সেই সম্পর্কই পরিণত হয় জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্নে। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই স্ত্রী তার নগদ অর্থ, সম্পত্তির দলিল ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে উধাও হয়ে যান। এমনকি গাড়ির ব্রেক নষ্ট করে তাকে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন চীনের বিনিয়োগকারী ব্যবসায়ী লি পিং।
ঘটনাটি মেনে নিতে না পেরে পালিয়ে যাওয়া স্ত্রীকে খুঁজে বের করার জন্য দীর্ঘ ৯ বছর ধরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক অনুসন্ধান চালান তিনি। এই অভিযানে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৮ কোটি রুপি।
সম্প্রতি ৫২ বছর বয়সী লি পিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের জীবনের এই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তার ১৫ মিনিটের ভিডিওটি চীনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। চীনা একটি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওটিতে ৬৯ হাজারের বেশি লাইক এবং ৯ হাজারের বেশি মন্তব্য পড়েছে।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে ৭ কোটি ইউয়ানের বেশি আয় করেছিলেন লি পিং। ২০১৪ সালে একটি ব্যবসায়িক ফোরামে অংশ নেওয়ার সময় ঝাং শুদান নামের এক নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ঝাং সে সময় একটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আলাপচারিতায় দুজনই চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শানসি প্রদেশের হানঝং এলাকার বাসিন্দা বলে জানতে পারেন। পরিচয় গভীর হলে ঝাং নিজের জীবনের নানা কষ্টের কথা লিকে জানান। তিনি দাবি করেন, তার বাবা-মা তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। সেই সহানুভূতি থেকেই তাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়, যা পরে বিয়েতে গড়ায়। তবে সেই বিয়েই শেষ পর্যন্ত লি পিংয়ের জীবনে এক ভয়াবহ প্রতারণার অধ্যায়ে পরিণত হয়।
ঝাং আরো দাবি করেন, নিজের চেষ্টায় পড়াশোনা করে তিনি ব্যাংকার হতে পেরেছেন। পরে লি বুঝতে পারেন, পরিচয়ের আগেই ঝাং তার আর্থিক সামর্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন।
সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হলে লি ঝাং যে ব্যাংকে কাজ করতেন সেখানে ২০ মিলিয়ন ইউয়ান জমা রাখেন। যে বৃদ্ধ দম্পতি ঝাংকে আশ্রয় দিয়েছেন, তাদের চিকিৎসার কথা বলে ঝাং প্রায়ই লির কাছ থেকে অর্থ ধার নিতেন। ২০১৫ সালের শুরুতে ঝাং জানায় তিনি লি’কে ভালোবাসেন।
তিনি লির সন্তানের মা হওয়া, একসঙ্গে সংসার করার স্বপ্ন দেখান। ঝাং লির আট বছর বয়সী মেয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ারও অঙ্গীকার করে। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে ঝাং দাবি করেন যে তিনি গর্ভবতী। পরের মাসে লি শেনঝেনে সাড়ে ৭ মিলিয়ন ইউয়ান মূল্যের একটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনে সেটি ঝাংয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। এর কিছুদিন পরই তারা বিয়ে করেন।
বিয়ের পর দিন লি তার এক বন্ধুর সঙ্গে গাড়ি চালিয়ে শেনঝেনে ফিরছিলেন। আর ঝাং ফিরছিলেন বিমানে। পথে গাড়ির ব্রেক বিকল হয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। তখনও লি কোনো সন্দেহ কনেননি। স্ত্রী, সংসার আর অনাগত সন্তানের স্বপ্নে বিভোর ছিলেন তিনি।
কয়েক দিন পর, ঝাং লির কাছে অনুরোধ জানান তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যেন ১০ মিলিয়ন ইউয়ান জমা দেওয়া হয়। ঝাং দাবি করে এতে তার পেশাগত উন্নতির পথ সহজ হবে। পুরো অর্থ না পারলেও লি ২ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন ইউয়ান জমা করেন ঝাংয়ের অ্যাকাউন্টে।
তার পরই হাওয়া হয়ে যান ঝাং। পরে পুলিশ জানতে পারে, ঝাং হংকং হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে চলে গেছেন। লি দাবি করেন, যাওয়ার সময় ঝাং তার অর্থ, চারটি সম্পত্তির মালিকানার দলিল এবং মূল্যবান সব কাগজপত্র নিয়ে গেছেন।
ভালোবাসার স্ত্রী এভাবে ধোঁকা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া লি খুব কষ্ট পেয়েছেন। পরে যখন জানতে পারেন, সব সম্পত্তি দখল করতে ঝাং এবং তার এক সহযোগী মিলে গাড়ির ব্রেক নষ্ট করে তাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন, তখন সেই কষ্ট আরো বাড়ে।
লি তার ভিডিওতে বলেছেন, ‘তিনি যদি কেবল আমার টাকা আত্মসাৎ করতে চাইতেন, তবে আমি হয়তো এই বিষয়ে আর এগোতাম না। কিন্তু আমাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে তার আমার গাড়িটি নষ্ট করা উচিত হয়নি। তার পরিকল্পনা স্পষ্টতই ছিল আমার স্ত্রী হিসেবে আমার সব সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হওয়া।’
ঝাংকে খুঁজে বের করতে মরিয়া লি তার হদিস পেতে ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চীনা সামাজিক সংস্থা, গির্জা এবং মাতৃত্বকালীন ক্লিনিকে যোগাযোগ করেন। লি চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রে আইনজীবী ও ব্যক্তিগত গোয়েন্দা নিয়োগ করেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের পুলিশ অবশেষে ঝাং এবং তার সন্তানকে খুঁজে পায়। পরে একটি ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়, সন্তানটি লির নয়।
লি জানান, ঝাং আইনগতভাবে তখনও তার স্ত্রী থাকায় প্রাথমিকভাবে তার প্রতারণার মামলাটি থমকে গিয়েছিল। তবে শেনঝেনের একটি আদালত তাদের বিয়ে বাতিল করে এবং ঝাংয়ের নামে নিবন্ধিত চারটি সম্পত্তি লির কাছে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন।
লি আরো দাবি করেন, ২০২৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত ঝাং-কে প্রতারণা, অবৈধ অভিবাসন, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা, শিশু অপহরণ এবং মানবপাচারসহ ২৩টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ৬৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এসব অপকর্মে ঝাংয়ের বেশ কয়েকজন সহযোগীও ছিল বলে দাবি করেন লি।