

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশ ব্যাংক আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন করে ১৪ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করেছে। নতুন পর্ষদে ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা ও তাদের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় দুই বছর পর আবারও ব্যাংকটির পরিচালনায় ফিরলেন মূল উদ্যোক্তারা।
বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে পাঠিয়েছে। চিঠিতে বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে নতুন পরিচালনা পর্ষদ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
তিনি এনপিবি নিউজকে বলেন, ‘ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার আগের তুলনায় উন্নতি হয়েছে। তাই এটি প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েকটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছিল। তবে অনেক ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি কিংবা তারা পরিচালনার দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত ছিলেন না। আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তারা রয়েছেন এবং তারা দায়িত্ব নিতে সক্ষম। তাই ব্যাংকটির পরিচালনার দায়িত্ব তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
১৪ সদস্যের নতুন পরিচালনা পর্ষদ
বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন—
• বদিউর রহমান • সেলিম রহমান • আহমেদুল হক • রফিকুল ইসলাম • ইমাদুর রহমান • নজমুল আহসান খালেদ • খলিলুর রহমান • আনোয়ার হোসেন • আব্দুস সালাম • লিয়াকত আলী চৌধুরী • এনায়েত উল্লাহ • কেডিএস গার্মেন্টসের মনোনীত পরিচালক মাহবুব আহমেদ • কেডিএস টেক্সটাইলসের মনোনীত পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ • কেওয়াই স্টিল মিলসের মনোনীত পরিচালক শরীফ উদ্দিন তসলিম।
কেন এই সিদ্ধান্ত
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনা, অনিয়ম ও প্রভাবমুক্ত পরিচালনা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। ওই সময় বিভিন্ন ব্যাংকে স্বতন্ত্র পরিচালক, পেশাজীবী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন বোর্ড গঠন করা হয়।
তবে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির আর্থিক সূচকে আগের তুলনায় উন্নতি হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তারা পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য উপলভ্য রয়েছেন। সেই বিবেচনায় ব্যাংকটির মালিকানাগত ধারাবাহিকতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তাদের প্রতিনিধিদের নিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে।
ব্যাংক খাতে নতুন বার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত ব্যাংক খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক একদিকে প্রয়োজন হলে দুর্বল বা অনিয়মে জড়িত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে হস্তক্ষেপ করবে, অন্যদিকে পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং সুশাসন নিশ্চিত হওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হলে প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তাদের কাছেও পরিচালনার দায়িত্ব ফিরিয়ে দিতে পারে।
তবে নতুন পরিচালনা পর্ষদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আমানতকারীদের আস্থা আরও শক্তিশালী করা, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখা, তারল্য পরিস্থিতির উন্নয়ন অব্যাহত রাখা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক দেশের ব্যাংকিং খাতে পুনর্গঠনের পর নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করল। এখন নতুন পরিচালনা পর্ষদ ব্যাংকটির আর্থিক স্থিতিশীলতা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে কতটা টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে পারে, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।