বৃহস্পতিবার
১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সামরিক অভিযানের সময় কিছু মার্কিনির মৃত্যু হতে পারে: ট্রাম্প

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের ফলে মার্কিন বাহিনীর মারা যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি–এর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইরানি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

শনিবার ( ২৮ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তার প্রশাসন সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠী মার্কিনদের লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, যুদ্ধে প্রাণহানি অস্বাভাবিক নয় এবং মার্কিন সেনাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযান শুধু বর্তমান পরিস্থিতির জন্য নয়, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার লক্ষ্যেও পরিচালিত হচ্ছে।

ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ওয়াশিংটন সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও সম্ভাব্য হতাহতের সংখ্যা বা নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার উল্লেখ তিনি করেননি।

তিনি দাবি করেন, অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ইরান–এর পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করা। একই সঙ্গে তিনি ইরানি জনগণের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। সরাসরি ইরানিদের উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, অভিযানের পর নিজেদের সরকার নিজেদেরই গঠন করতে হবে এবং এটি হয়তো বহু প্রজন্মের মধ্যে একটি বিরল সুযোগ।

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েল–এর এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক পদক্ষেপ সাহসী ইরানি জনগণের জন্য নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

দুই নেতার বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, সামরিক অভিযানের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তাও সামনে আনা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত তেহরান থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

শনিবার ইরানের বিরুদ্ধে ‘পূর্বপ্রস্তুতিমূলক হামলা’ চালানোর কথা জানিয়েছে ইসরায়েল। এই ঘটনা ইরানের পশ্চিমাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও ক্ষীণ করে তুলল।

নিউইয়র্ক টাইমস এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরান হামলায় যুক্তরাষ্ট্রও জড়িত। খবরে আরও বলা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে তেহরান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন স্বীকার করেছে, রাজধানী তেহরানে শনিবার খামেনির কার্যালয়ের কাছাকাছি এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, এই হামলায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। খামেনিও লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জুমহুরি এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এ ছাড়া সৈয়দ খান্দান এলাকায়ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা ইসনা জানিয়েছে, পাস্তুর স্ট্রিটের আশপাশ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।

গত জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনব্যাপী বিমান যুদ্ধের পর এই হামলা শুরু হলো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে এগোয়, তবে তারা আবারও হামলা চালাবে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, ইসরায়েলের ওপর থেকে হুমকি দূর করতে ইরানের বিরুদ্ধে পূর্বপ্রস্তুতিমূলক হামলা চালিয়েছে।

একজন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করে কয়েক মাস ধরে এই অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ আগেই হামলার তারিখ চূড়ান্ত করা হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
France VS England
Scheduled
19 Jul, 03:00 AM
VS
World Cup