

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বকাপের মঞ্চে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত লড়াই করে ৩-২ ব্যবধানে মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ও যোগ করেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
বিশ্বকাপে এর আগে কখনও দুই গোল পিছিয়ে থেকে জয় পায়নি আর্জেন্টিনা। এবার সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখাল আলবিসেলেস্তেরা। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দারুণ মানসিক দৃঢ়তা, আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই এনে দিয়েছে স্মরণীয় এই জয়। এর আগে ১৩ ম্যাচে ২ গোল আগে হজম করেছিল তারা। প্রত্যেকেবারই হেরেছিল এবার ইতিহাস নতুন করে লিখলেন মেসি অ্যান্ড কোং।
শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষের কাছে প্রথম গোল হজম করার পর জয় পাওয়ার ঘটনাও আর্জেন্টিনার জন্য দীর্ঘদিনের অপেক্ষার ছিল। সর্বশেষ ২০০৬ সালের ২৪ জুন মেক্সিকোর বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও জয় পেয়েছিল তারা। এরপর প্রথমে গোল হজম করা চারটি বিশ্বকাপ ম্যাচের একটিতেও জয়ের মুখ দেখেনি আর্জেন্টিনা।
অবশেষে সেই দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটল। দুই গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় শুধু কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটই নিশ্চিত করেনি, বরং বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর্জেন্টিনার অন্যতম সেরা কামব্যাক হিসেবেও জায়গা করে নিয়েছে। এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন নতুন করে প্রমাণ করেছে, শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে কখনোই হিসাবের বাইরে রাখা যায় না।
ম্যাচে আর্জেন্টিনার নায়ক লিওনেল মেসি। প্রথম গোলে অ্যাসিস্ট করেছিলেন তিনি। ৭৯ মিনিটে মেসির ক্রস থেকে বক্সের ভেতরে লাফিয়ে গোল করেন বদলি হিসেবে নামা ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। এর ৪ মিনিট ৯০ সেকেন্ড পর মেসির পা ছুঁয়ে আসে দ্বিতীয় গোল। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা দ্বিতীয় মিনিটে লাওতারোর মার্তিনেজের ক্রসে ফাঁকায় থাকা এনজো ফার্নান্দেজ গোল করে আর্জেন্টিনাকে জিতিয়ে দেন। ২–০ গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা ম্যাচটাকে ৩-২ বানিয়ে ফেলল। সেই সঙ্গে ইতিহাসের পাতায় নতুন এক অধ্যায়। যে অধ্যায় আগে কখনো হয়নি!

