

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ম্যাচের ১৭তম মিনিটে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া দুর্দান্ত এক শটে জালে বল পাঠান লিওনেল মেসি। সেই গোলেই বিশ্বকাপে নিজের ও আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম গোলের দেখা পান তিনি। গোলের আনন্দে যখন আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন, তখন টেলিভিশনের ক্যামেরায় ধরা পড়ে এক আবেগঘন মুহূর্ত—মেসির চোখে জল।
ঘটনাটি নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা। বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাওয়ার পরও কেন কাঁদলেন মেসি? ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক জানান, এর পেছনে ফুটবল নয়, ছিল ব্যক্তিগত একটি কারণ।
যদিও মেসি নিজে বিস্তারিত কিছু জানাননি, পরে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, অসুস্থ বাবা হোর্হে মেসির কথা ভেবেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে গোল করার পর সেই আবেগই অশ্রু হয়ে ঝরে পড়ে।
এরপর মেসির পরিবারও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, হোর্হে মেসির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
ইএসপিএনকে পাঠানো পরিবারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “তিনি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় আছেন এবং তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার ইতিবাচক উন্নতি হচ্ছে।”
এ ছাড়া হোর্হে মেসির স্বাস্থ্য নিয়ে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন গুঞ্জন ও জল্পনাও নাকচ করেছে পরিবার। তাদের দাবি, আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত তথ্য ছাড়া অন্য কোনো খবরের ভিত্তি নেই।
বাবার অসুস্থতার মধ্যেও মাঠে নেমে গোল করে দলকে এগিয়ে নেওয়া এবং পরে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার ঘটনাটি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে মেসির মানবিক দিকটিকেই আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘গত কয়েক ঘণ্টায় যে ধরনের দাবি, গুজব ও অনুমানভিত্তিক খবর ছড়ানো হয়েছে, তাতে আমরা গভীরভাবে হতাশ। এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় হওয়া সত্ত্বেও কিছু মানুষ যে সংবেদনশীলতা, সম্মানবোধ ও ন্যূনতম বিবেচনার অভাব দেখিয়েছেন, তাতে আমরা অত্যন্ত অসন্তুষ্ট।’
মেসি পরিবারের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা পরিষ্কার করে জানাতে চাই যে হোর্সে মেসির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য কেবল তাঁর নিকটতম পরিবারের সদস্যদের কাছেই রয়েছে। তাই পরিবার বা তাদের আনুষ্ঠানিক মাধ্যম থেকে প্রকাশিত নয়—এমন কোনো বক্তব্য, তথ্য বা দাবি সত্য বলে গণ্য করা উচিত নয়। এমন পরিস্থিতিতে আমরা সবাইকে দায়িত্বশীলতা, সংযম এবং মানবিকতা প্রদর্শনের আহ্বান জানাই।’
বিবৃতিতে যাঁরা ভালোবাসা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে পাশে ছিলেন, তাঁদের প্রতি ধন্যবাদও জানানো হয়, ‘এই কঠিন সময়ে যাঁরা ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তাঁদের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। একই সঙ্গে হোর্হে মেসি ও তাঁর পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং পারিবারিক পরিসরকে সম্মান করার অনুরোধ করছি। পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কোনো নতুন তথ্য থাকলে পরিবার যথাসময়ে উপযুক্ত মাধ্যমের মাধ্যমে তা জানিয়ে দেবে।’
আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির হ্যাটট্রিকে ৩–০ গোলে জেতে আর্জেন্টিনা। জয়ের পর মাঠের কান্না নিয়ে মেসি বলেন, ‘সত্যি বলতে, ফুটবলের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যক্তিগত কারণে গত কয়েকটা দিন আমার বেশ কঠিন কেটেছে। আমি দলের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। বরাবরের মতোই তারা সব সময় আমার পাশে ছিল। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার জন্য তারা আমাকে প্রচুর শক্তি জুগিয়েছে, ব্যস এটুকুই।’
মেসির আর্জেন্টিনা পরের ম্যাচ খেলবে ২২ জুন রাত ১১টায় অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে।
