রবিবার
১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্যান্সার প্রতিরোধে রোজার ভূমিকা: চিকিৎসা বিজ্ঞান কী বলে

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:১১ পিএম
ক্যান্সার
expand
ক্যান্সার

রমজানে রোজা কেবল খাদ্য ও পানির নিয়ন্ত্রণ নয়, এটি শরীরের কোষ ও বিপাকীয় প্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করে।

সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, রোজা এবং ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং (Intermittent Fasting) ক্যান্সার প্রতিরোধে কিছুভাবে সহায়ক হতে পারে।

১. রোজা ও কোষের পুনর্জীবন (Autophagy)

রোজার সময় কোষ ক্ষুধার সংকেত পায়, যার ফলে অটোফ্যাজি (Autophagy) প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়।

আরও পড়ুনঃ রমজানে মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা রাগ নিয়ন্ত্রণ করার উপায়।

এই প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পুরনো কোষ ভেঙে নতুন কোষের তৈরি সহজ হয়। প্রাকৃতিকভাবে কোষ পুনর্জীবন ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ধীর করে এবং শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

গবেষণা দেখিয়েছে যে অটোফ্যাজি কোষকে স্বাভাবিকভাবে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।

২. ইনসুলিন ও ইন্সুলিন-লাইক গ্রোথ ফ্যাক্টর (IGF-1) কমানো

রোজার সময় রক্তে ইনসুলিন ও IGF-1 এর মাত্রা হ্রাস পায়। IGF-1 অতিরিক্ত থাকলে কোষ দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। রোজা এই প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি কমায়।

৩. প্রদাহ (Inflammation) কমানো

দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ অনেক ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। রোজা ও হালকা, স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণে দেহের প্রদাহ কমে। এতে ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস পেতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুনঃ সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি কমিয়ে রমজানে সময় বাঁচানোর কৌশল।

৪. ওজন নিয়ন্ত্রণ ও চর্বি হ্রাস

রোজার মাধ্যমে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমানো যায়। স্থূলতা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় থাকলে শরীরের কোষ স্থিতিশীল থাকে এবং ক্যান্সার কম হয়।

৫. গবেষণায় প্রমাণিত কিছু ফলাফল

ল্যাব ও প্রাণী গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কেমোথেরাপির সাথে মিলিয়ে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করে।

মানুষের উপর কিছু সীমিত গবেষণায় দেখা গেছে, রোজা বা ফাস্টিং কোষের ক্ষতি কমায়, শক্তি বৃদ্ধি করে এবং কিছু কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে সহায়তা করে।

আরও পড়ুনঃ অটোফ্যাজি (Autophagy): রোজা কীভাবে শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে?

৬. সতর্কতা

রোজা ক্যান্সার রোগীদের জন্য স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা নয়। রোগী অবশ্যই ডাক্তার ও পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে রোজা রাখবেন।

চিকিৎসা চলাকালীন রোজা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অপরিহার্য।

বিজ্ঞান রোজার স্বাস্থ্যগত ফায়দা দেখিয়েছে, বিশেষ করে অটোফ্যাজি সক্রিয় করা, প্রদাহ কমানো, IGF-1 নিয়ন্ত্রণ ও ওজন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে।

এভাবে রোজা কোষকে সুস্থ রাখে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করতে সাহায্য করে। তবে, রোগীদের রোজা রাখার আগে সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

রমজান মাসে সঠিক খাদ্য, হালকা ব্যায়াম ও যথাযথ বিশ্রাম রোজার সঙ্গে মিলিয়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

রোজা শুধুমাত্র আত্মিক অনুশাসন নয়, বরং বৈজ্ঞানিকভাবে শরীরের সুরক্ষাও নিশ্চিত করে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
FIFA World Cup
LIVE
Germany VS Curaçao
Scheduled
Germany
- - -
Curaçao
World Cup