বৃহস্পতিবার
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উচ্চ রক্তচাপ (High BP) থাকলে রোজা রাখার নিয়ম ও সতর্কতা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

রমজান মাসে উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension) থাকা রোগীদের জন্য রোজা রাখা বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

উচ্চ রক্তচাপ থাকলে দীর্ঘ সময় পানিশূন্য থাকা এবং খারাপ ডায়েট রক্তচাপের উত্থান বা পতন ঘটাতে পারে, যা গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

ইসলামী শরিয়ত, হাদিস এবং আধুনিক চিকিৎসার দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হলো।

আরও পড়ুনঃ রোজা রেখে মাইগ্রেন বা তীব্র মাথাব্যথা হলে করণীয় কী?

১. উচ্চ রক্তচাপ রোগীর রোজা রাখা ইসলামী দৃষ্টিকোণ

কুরআন ও হাদিসে অসুস্থ ব্যক্তি রোজা না রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল পূর্ববর্তীদের ওপর, কিন্তু যারা অসুস্থ বা ভ্রমণে থাকে, তারা পরে রোজা পূরণ করবে।” (সূরা বাকারাহ: ১৮৪)

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“যে ব্যক্তি অসুস্থ অথবা ভ্রমণে থাকে, সে পরে রোজা পূরণ করবে।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

অতএব, যদি উচ্চ রক্তচাপ রোজা রাখার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়, রোগী রোজা না রাখলেও গুনাহ হবে না। পরে অসুস্থতা কাটলে কাজা রোজা রাখা যেতে পারে।

২. চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক

রোজা শুরু করার আগে ডাক্তারকে দেখানো অত্যন্ত জরুরি। ব্লাড প্রেসার মাপা, ওষুধের টাইমিং ও ডোজ সমন্বয় করা দরকার। যদি রোজা রাখলে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি থাকে, রোজা ভাঙার পরামর্শ দেওয়া হয়।

৩. সেহরিতে করণীয়

পানি পর্যাপ্ত পান – রোজার জন্য এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হালকা ও স্বাস্থ্যকর খাবার – ওটস, দই, ফল ও হোল গ্রেইন অন্তর্ভুক্ত করুন।

সাধারণ নুন (লবণ) সীমিত করা – অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপ বাড়ায়। ডাক্তারের অনুমোদিত ঔষধ গ্রহণ – সেহরির সাথে ওষুধ নেওয়া যায় যদি ডাক্তার অনুমোদন দেন।

৪. ইফতারে করণীয়

ইফতারে প্রথমে পানি ও খেজুর খাওয়া উত্তম। ভারী, তেল ও ঝাল খাবার এড়িয়ে চলা। দই ও প্রোবায়োটিক অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে, কারণ এগুলো হজম ঠিক রাখে।

আরও পড়ুনঃ কিডনি রোগীরা রোজা রাখতে পারবেন কি? ডাক্তাররা কী বলেন?

৫. দিনের সময় সতর্কতা

শারীরিক বিশ্রাম – বিশেষ করে দুপুরের সময় হালকা বিশ্রাম করা উত্তম। মানসিক চাপ কমানো – রোজার উদ্দেশ্য হলো নফস ও আত্মসংযম নিয়ন্ত্রণ। হালকা ব্যায়াম – ইফতারের পরে হালকা হাঁটা করা যেতে পারে।

৬. সতর্কতার বিষয়

যদি মাথা ঘোরা, চक्कर, বমি বা উচ্চ রক্তচাপের আচমকা বৃদ্ধি হয়, তবে রোজা ভাঙা উচিত।

ডায়াবেটিস বা কিডনি সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ওষুধ না খেয়ে রোজা রাখা বিপজ্জনক।

৭. ঘরোয়া পরামর্শ

রোজার সময় অতিরিক্ত চা, কফি ও সোডা এড়িয়ে চলা। ইফতারের পরে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

আরও পড়ুনঃ রমজানে কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation) দূর করার কার্যকরী ডায়েট।

সেহরি ও ইফতারে লবণ ও চিনি সীমিত করা। হালকা খাবার ও বাদাম, খেজুর খাওয়া উত্তম।

রোজা শুধু খাবার ও পানির বিষয় নয়, বরং শরীর, মন ও নফস নিয়ন্ত্রণের মাস। উচ্চ রক্তচাপ রোগীরা রোজা রাখার সময় শরীরের সংকেত শুনতে হবে।

ইসলামী বিধান অনুযায়ী অসুস্থতা থাকলে রোজা ভাঙা জায়েজ এবং পরে কাজা রোজা পূরণ করা যাবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X