

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের আনন্দ এখনও শেষ হয়নি আর্জেন্টিনার। তবে সেই সাফল্যের মধ্যেই নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দলটি। ফাইনালের পর সংঘর্ষ এবং সেমিফাইনালে রাজনৈতিক বার্তা যুক্ত ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, কয়েকজন খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করেছে ফিফা।
ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির আওতায় থাকা তদন্তে দুটি ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথমটি, স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে মাঠে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষ। দ্বিতীয়টি, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের প্রদর্শিত ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস’ লেখা ব্যানার।
ফাইনালের ঘটনার জেরে মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে তিনটি হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। নাহুয়েল মোলিনার বিরুদ্ধে রয়েছে দুটি হামলার অভিযোগ এবং অসংখেলোয়াড়সুলভ আচরণের একটি অভিযোগ। সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাও হামলার অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন। পাশাপাশি থিয়াগো আলমাদা ও স্পেনের গাভির আচরণও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
সেমিফাইনালের ব্যানারটি ছিল ফকল্যান্ড বা মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন। তবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন ফিফার শৃঙ্খলাবিধির পরিপন্থী হওয়ায় বিষয়টি আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
শুধু খেলোয়াড় বা কোচিং স্টাফই নয়, আর্জেন্টিনার সমর্থকদের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে বৈষম্যমূলক ও বর্ণবাদী স্লোগান, গ্যালারি থেকে বস্তু নিক্ষেপ, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন এবং নির্ধারিত সময়ের পর ম্যাচ শুরু হওয়ার মতো ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তদন্ত শেষে ফিফা পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। অভিযুক্ত ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা, কোচিং স্টাফের টাচলাইন নিষেধাজ্ঞা এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড বা সতর্কবার্তা জারির সম্ভাবনা রয়েছে। সমর্থকদের আচরণ গুরুতর বিবেচিত হলে ভবিষ্যতে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে ম্যাচ আয়োজন কিংবা সীমিতসংখ্যক দর্শক নিয়ে খেলার নির্দেশও দেওয়া হতে পারে।
তবে চলমান তদন্ত আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ শিরোপার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। বর্তমান অভিযোগের ধরন অনুযায়ী দলটির শিরোপা বাতিল বা আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ হওয়ার সুযোগ নেই। ফিফার প্রচলিত বিধি অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনায় শাস্তি সাধারণত জরিমানা, ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা বা অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।