

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রমজান মাসে কিডনি রোগীদের জন্য রোজা রাখা বিশেষ সতর্কতা ও পরিকল্পনা প্রয়োজন। কিডনি সমস্যার ধরণ ও গুরুত্বর উপর নির্ভর করে রোজা রাখা সম্ভব বা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
ইসলামী শরিয়ত, হাদিস এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হলো।
১. কিডনি রোগ ও রোজার সম্পর্ক
কিডনি রোগের মধ্যে রয়েছে—
ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD) ডায়ালিসিস নেওয়া রোগী কিডনিতে পাথর বা সংক্রমণ হাই ব্লাড প্রেশার বা ডায়াবেটিসজনিত কিডনি সমস্যা
আরও পড়ুনঃ রমজানে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সতর্কতা।
এই রোগগুলোতে শরীরের পানিশূন্যতা, ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য এবং রক্তচাপের সমস্যা হতে পারে।
রোজা রাখা হলে ১৪–১৬ ঘণ্টা পানিশূন্য থাকার কারণে গম্ভীর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
২. ইসলামী দৃষ্টিকোণ
কুরআন ও হাদিসে অসুস্থ বা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের রোজা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল পূর্ববর্তীদের ওপর, কিন্তু যারা অসুস্থ বা ভ্রমণে থাকে, তারা পরে রোজা পূরণ করবে।” (সূরা বাকারাহ: ১৮৪)
এই আয়াত স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেয় যে—যদি কিডনি রোগীর জন্য রোজা স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তবে রোজা না রাখা জায়েজ এবং পরে কাজা রোজা রাখা যাবে।
হাদিসেও এসেছে,
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি অসুস্থ অথবা ভ্রমণে থাকে, সে পরে রোজা পূরণ করবে।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
৩. ডাক্তারদের পরামর্শ
১. ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD)
পর্যায় ১–২: হালকা অসুস্থতার ক্ষেত্রে রোজা রাখা যেতে পারে, তবে পর্যাপ্ত পানি ও ডায়েট মেনে চলা আবশ্যক।
পর্যায় ৩–৫: রোজা ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে ডায়ালিসিসের রোগী রোজা না রাখাই নিরাপদ।
আরও পড়ুনঃ রমজানে গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটি থেকে বাঁচার ১০টি ঘরোয়া উপায়।
২. ডায়ালিসিস নেওয়া রোগী
ডায়ালিসিস সপ্তাহে ২–৩ বার হয়। রোজা রাখলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও ইলেক্ট্রোলাইটের ক্ষতি হতে পারে।
চিকিৎসক সাধারণত ডায়ালিসিস রোগীদের রোজা না রাখার পরামর্শ দেন।
৩. কিডনিতে পাথর বা সংক্রমণ
যদি প্রচণ্ড ব্যথা, জ্বর বা ইউরিন সংক্রমণ থাকে, রোজা রাখা নিরাপদ নয়। সমস্যা না থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা রোজা রাখা সম্ভব।
৪. হাই ব্লাড প্রেশার বা ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগ
রোজা রাখার সময় ব্লাড প্রেশার ও ব্লাড সুগারের নিয়মিত মনিটরিং জরুরি। সেহরি ও ইফতারে সঠিক ডায়েট ও পানি গ্রহণ আবশ্যক।
৪. সতর্কতা ও ঘরোয়া পরামর্শ
পানি পর্যাপ্ত গ্রহণ – সেহরি ও ইফতারে পর্যাপ্ত পানি পান করা আবশ্যক। হালকা খাবার খাওয়া – অতিরিক্ত তেল, চিনি ও ঝাল খাবার এড়িয়ে চলা।
ঔষধ সময়মতো নেওয়া – রোজার সময় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ। হালকা বিশ্রাম – দিনের মধ্যে অতিরিক্ত পরিশ্রম না করা।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা – রোজা রাখার আগে এবং চলাকালীন সময়ে ডাক্তার বা কিডনি স্পেশালিস্টের পরামর্শ নেওয়া।
৫. সিদ্ধান্ত
হালকা কিডনি রোগ: ডাক্তার অনুমোদন থাকলে রোজা রাখা সম্ভব, তবে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ রোজা রেখে মাইগ্রেন বা তীব্র মাথাব্যথা হলে করণীয় কী?
গুরুতর কিডনি সমস্যা বা ডায়ালিসিস: রোজা না রাখাই নিরাপদ এবং পরে কাজা রোজা দেওয়া যাবে।
ইসলামী শরিয়ত ও হাদিস অনুযায়ী, অসুস্থতা রোজা ভাঙার বৈধ কারণ।
কিডনি রোগীদের জন্য রোজা রাখা স্বাস্থ্য ও জীবনরক্ষার দিক থেকে জটিল হতে পারে।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী অসুস্থ ব্যক্তি রোজা না রাখলেও গুনাহ হবে না। স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ হলে রোজা ভাঙা নিরাপদ।
হালকা রোগে ডাক্তার পরামর্শ নিয়ে সতর্কভাবে রোজা রাখা যায়। পানি, সেহরি ও ইফতার, ডায়েট ও বিশ্রামে যত্ন নিলে রোজা স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পালন করা সম্ভব।
মন্তব্য করুন

