

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রমজান মাসে দীর্ঘ সময় খালি থাকার কারণে অনেকের জন্য কোষ্ঠকাঠিন্য বা হজম সমস্যা দেখা দেয়। কোষ্ঠকাঠিন্য রোজার সময় অস্বস্তি সৃষ্টি করে এবং শরীরকে দুর্বল করে, তাই এটি প্রতিরোধ করা অত্যন্ত জরুরি।
ইসলামিক সুন্নাহ ও হাদিসের আলোকে স্বাস্থ্যকর ডায়েট ও ঘরোয়া উপায়গুলো এখানে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
১. সেহরিতে ফাইবারযুক্ত খাবার
সেহরিতে বেশি ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।
আরও পড়ুনঃ রমজানে গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটি থেকে বাঁচার ১০টি ঘরোয়া উপায়।
উপকারী খাবার:
ওটস, গমের রুটি বা হোল গ্রেইন পরোটা ফল: আপেল, নাশপাতি, কলা সবজি: শাক, বাঁধাকপি, গাজর
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“সেহরি খাও, কারণ এতে বরকত আছে।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
ফাইবারযুক্ত খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং রোজার সময় হজম ঠিক রাখে।
২. পর্যাপ্ত পানি পান
রোজা রাখার সময় দিনের বেলা পানি গ্রহণ সম্ভব না হলেও, সেহরি ও ইফতারে পর্যাপ্ত পানি পান কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে।
পরামর্শ:
সেহরিতে অন্তত ২–৩ গ্লাস পানি পান করুন। ইফতারের পরে বাকি সময় পানি পান করে হাইড্রেশন বজায় রাখুন।
৩. প্রোবায়োটিক এবং দই
দই, ছানা বা কেফির হজমে সহায়ক। এতে পেটের ভাল ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পায়, যা কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়।
হাদিসে এসেছে:
রাসূলুল্লাহ (সা.) দই খেতেন এবং সুপারিশ করতেন, কারণ এটি পেটের জন্য উপকারী। (তিরমিজি, আবু দাউদ)
আরও পড়ুনঃ রোজা রেখে মাইগ্রেন বা তীব্র মাথাব্যথা হলে করণীয় কী?
৪. হালকা ও নিয়মিত ইফতার
ইফতারে হঠাৎ অনেক খাবার খাওয়া বা তেল, চিনি, ভাজা বেশি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়তে পারে।
উপায়:
প্রথমে খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার করুন। পরে হালকা স্যুপ বা সেদ্ধ খাবার খেতে পারেন। ভারী খাবার রাতের শেষ দিকে খাওয়া উত্তম।
৫. বাদাম ও শুকনো ফল
বাদাম, খেজুর, কিশমিশ, আখরোট ইত্যাদি হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।
উপায়: সেহরিতে কিছু বাদাম ও খেজুর খাওয়া। ইফতারে দই বা সালাদের সাথে শুকনো ফল মিশানো।
৬. কম মশলা, কম তেল
ঝাল, ভাজা ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার হজমকে কঠিন করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ায়।
উপায়:
হালকা রান্না করুন। সবজি বেশি রাখুন এবং ভেজাল কম রাখুন।
৭. হালকা ব্যায়াম
ইফতারের পরে হালকা হাঁটা বা স্ট্রেচিং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“সেহরির পরে হালকা হাঁটা পেটের জন্য উপকারী।” (তিরমিজি)
৮. রোজার সময় চিনি ও মিষ্টি কম খাওয়া
প্রচুর চিনি ও মিষ্টি হজমকে ধীর করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ায়।
উপায়:
খেজুর ও প্রাকৃতিক মিষ্টি দিয়ে মিষ্টি চাহিদা মেটানো।
৯. চা বা কফি সীমিত করা
সেহরিতে বেশি চা বা কফি পান করলে ডিহাইড্রেশন হয়। রোজার সময় পানির অভাবের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়তে পারে।
আরও পড়ুনঃ কিডনি রোগীরা রোজা রাখতে পারবেন কি? ডাক্তাররা কী বলেন?
১০. নিয়মিত রুটিন বজায় রাখা
প্রতিদিন সেহরি ও ইফতারের সময় ঠিক রাখা।
সঠিক ডায়েট ও পর্যাপ্ত পানি বজায় রাখলে রোজার সময় কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণে থাকে।
সেহরিতে ফাইবার, দই ও বাদাম অন্তর্ভুক্ত করুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ইফতারে হালকা ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উত্তম।
ঝাল, ভাজা ও চিনি সীমিত করুন। হালকা ব্যায়াম ও নিয়মিত রুটিন মেনে চলুন।
হাদিস ও সুন্নাহ অনুসারে সেহরি করা ও হালকা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া রোজার বরকত বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর রাখে।
মন্তব্য করুন

