শুক্রবার
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইতেকাফ করার নিয়ম ও শর্তাবলি।

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

ইতেকাফ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ ইবাদত, যা বিশেষভাবে রমজানের শেষ দশ দিনে আদায় করা হয়।

ইতেকাফের অর্থ হলো আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মসজিদে অবস্থান করা এবং দুনিয়াবি কাজকর্ম থেকে নিজেকে বিরত রাখা।

রাসূলুল্লাহ (সা.) নিয়মিতভাবে রমজানের শেষ দশ দিনে ইতেকাফ করতেন। হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, “রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর ইন্তেকাল পর্যন্ত রমজানের শেষ দশ দিনে ইতেকাফ করতেন।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)।

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, ইতেকাফ একটি প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ আমল এবং এর ফজিলত অত্যন্ত বড়।

আরও পড়ুনঃ তারাবির নামাজ না পড়লে কি রোজা হবে না?

প্রথমত, ইতেকাফের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা। মানুষ দৈনন্দিন জীবনে নানা কাজে ব্যস্ত থাকে, ফলে আল্লাহর ইবাদতে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে যায়।

ইতেকাফ সেই সুযোগ এনে দেয়, যেখানে একজন মুসলমান সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর দিকে মনোযোগী হয়। কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, জিকির, দোয়া ও ইস্তেগফারের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জন করাই ইতেকাফের আসল লক্ষ্য।

দ্বিতীয়ত, ইতেকাফের শর্তগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়ত। ইতেকাফ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করতে হবে, কোনো সামাজিক সম্মান বা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে নয়।

নিয়ত মুখে বলা জরুরি নয়, বরং মনে দৃঢ় সংকল্প করলেই যথেষ্ট। দ্বিতীয় শর্ত হলো মসজিদে অবস্থান করা।

পুরুষদের জন্য ইতেকাফ মসজিদে করা শর্ত, যেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় হয়। নারীদের ক্ষেত্রে নিজ ঘরের নির্দিষ্ট নামাজের জায়গায় ইতেকাফ করা জায়েজ।

আরও পড়ুনঃ তাহাজ্জুদ নামাজের সঠিক সময় ও নিয়ম।

তৃতীয়ত, ইতেকাফের সময়কাল সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। সুন্নাহ ইতেকাফ হলো রমজানের শেষ দশ দিন। সাধারণভাবে ২০ রমজানের সূর্যাস্তের আগে মসজিদে প্রবেশ করে ঈদের চাঁদ দেখা পর্যন্ত অবস্থান করা হয়।

এছাড়া কেউ চাইলে নফল ইতেকাফও করতে পারে, যা অল্প সময়ের জন্যও হতে পারে, যেমন কয়েক ঘণ্টা বা একদিনের জন্য।

চতুর্থত, ইতেকাফ অবস্থায় কিছু বিষয় অবশ্যই পালন করতে হবে। ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকা এবং দুনিয়াবি ব্যস্ততা কমিয়ে আনা ইতেকাফের আদবের অন্তর্ভুক্ত।

মসজিদে থাকা অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত, তাহাজ্জুদ, নফল নামাজ, দরুদ শরিফ, তাসবিহ ও দোয়ার মাধ্যমে সময় কাটানো উত্তম।

রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশ দিনে ইবাদতে এত বেশি মনোযোগ দিতেন যে পরিবার থেকেও দূরে থাকতেন এবং রাত জাগরণ করতেন। (সহিহ বুখারি)।

পঞ্চমত, ইতেকাফ ভঙ্গ হওয়ার কারণগুলো জানা জরুরি। বিনা প্রয়োজন মসজিদ থেকে বের হলে ইতেকাফ ভেঙে যায়।

তবে স্বাভাবিক প্রয়োজন যেমন পায়খানা-পেশাব, অজু, গোসল, অথবা খাবার সংগ্রহের জন্য বের হওয়া জায়েজ।

স্ত্রী সহবাস বা যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে ইতেকাফ ভেঙে যায়। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “আর তোমরা মসজিদে ইতেকাফরত অবস্থায় তাদের (স্ত্রীদের) সঙ্গে সহবাস করো না।” (সূরা বাকারা: ১৮৭)।

এছাড়া অসুস্থতা বা জরুরি বিপদের কারণে মসজিদ ত্যাগ করলে ইতেকাফ বাতিল হয়ে যায় এবং পরে তা কাজা করতে হয়।

আরও পড়ুনঃ শবে কদরের রাতে বিশেষ আমল ও ফজিলত।

ষষ্ঠত, ইতেকাফকারীর জন্য উত্তম হলো কম কথা বলা, মোবাইল ফোন বা অপ্রয়োজনীয় আলাপ এড়িয়ে চলা এবং নিজের সময়কে ইবাদতে ব্যয় করা।

দুনিয়াবি আলোচনা, হাসি-ঠাট্টা বা ব্যবসায়িক কথাবার্তা ইতেকাফের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং আত্মসমালোচনা করা, নিজের গুনাহের জন্য তওবা করা এবং আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে ক্ষমা চাওয়াই এই সময়ের প্রকৃত আমল।

ইতেকাফ একটি মহামূল্যবান সুন্নাহ ইবাদত যা রমজানের শেষ দশ দিনে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। এর শর্ত হলো নিয়ত করা, মসজিদে অবস্থান করা এবং অপ্রয়োজনীয় দুনিয়াবি কাজ থেকে বিরত থাকা।

ইতেকাফের মাধ্যমে একজন মুসলমান নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে, গুনাহ থেকে ফিরে আসে এবং শবে কদরের বরকত লাভের সুযোগ পায়।

তাই সামর্থ্য থাকলে প্রত্যেক মুসলমানের উচিত এই সুন্নাহ আমল পালন করা এবং রমজানের শেষ দিনগুলোকে আল্লাহর ইবাদতে অতিবাহিত করা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X