

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


তাহাজ্জুদ নামাজ ইসলামের অন্যতম ফজিলতপূর্ণ নফল ইবাদত, যা আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। কুরআন ও হাদিসে এই নামাজের গুরুত্ব বারবার উল্লেখ করা হয়েছে।
এটি এমন একটি ইবাদত যা মানুষকে আল্লাহর সামনে একান্তভাবে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়, দোয়া কবুলের বিশেষ সময় এনে দেয় এবং আত্মশুদ্ধির পথ প্রশস্ত করে।
অনেক মুসলমান তাহাজ্জুদের ফজিলত জানলেও সঠিক সময় ও নিয়ম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় নিয়মিত আদায় করতে পারেন না।
আরও পড়ুনঃ ইফতারের সহীহ দোয়া ও বাংলা অর্থ।
প্রথমত, তাহাজ্জুদ নামাজের সঠিক সময় সম্পর্কে জানা জরুরি। তাহাজ্জুদ নামাজের সময় শুরু হয় এশার নামাজ আদায়ের পর ঘুমানোর মাধ্যমে এবং শেষ হয় ফজরের আজানের আগে সুবহে সাদিক পর্যন্ত।
অর্থাৎ কেউ যদি এশার নামাজ পড়ে কিছুক্ষণ ঘুমায়, তারপর রাতে জেগে নফল নামাজ আদায় করে, সেটিই তাহাজ্জুদ হিসেবে গণ্য হয়।
শুধু রাত জেগে নফল নামাজ পড়লেই তাহাজ্জুদ হবে না; বরং শর্ত হলো আগে ঘুমানো। তবে ঘুম কম বা বেশি হওয়া বাধ্যতামূলক নয়, অল্প সময় ঘুমালেও তাহাজ্জুদের নিয়ত পূর্ণ হয়।
তাহাজ্জুদের সর্বোত্তম সময় হলো রাতের শেষ তৃতীয়াংশ।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আমাদের প্রতিপালক দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন, কে আছে যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আছে যে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দেব? কে আছে যে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব?” (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)।
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, তাহাজ্জুদের সময় দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।
আরও পড়ুনঃ তারাবির নামাজ ৮ রাকাত নাকি ২০ রাকাত? সঠিক সমাধান।
দ্বিতীয়ত, তাহাজ্জুদ নামাজের রাকাত সংখ্যা সম্পর্কে ইসলামে নির্দিষ্ট কোনো সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। সাধারণভাবে দুই রাকাত থেকে শুরু করে আট রাকাত বা তার বেশি পড়া যায়।
রাসূলুল্লাহ (সা.) অধিকাংশ সময় আট রাকাত তাহাজ্জুদ পড়তেন এবং শেষে তিন রাকাত বিতর নামাজ আদায় করতেন।
তবে কেউ যদি দুই বা চার রাকাতও আদায় করে, সেটিও সহিহ ও সওয়াবের কাজ হবে। মূল বিষয় হলো নিয়মিত হওয়া এবং খুশু-খুজু সহকারে নামাজ আদায় করা।
তৃতীয়ত, তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার নিয়ম অন্যান্য নফল নামাজের মতোই। প্রথমে অজু করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অবস্থায় কিবলামুখী হয়ে দাঁড়াতে হবে। নিয়ত মনে মনে করা যথেষ্ট, মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়।
এরপর দুই রাকাত করে নামাজ আদায় করা উত্তম। কিরাতে ধীরে ও মনোযোগ দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করা উচিত।
দীর্ঘ কিয়াম, রুকু ও সিজদার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে বিনয় প্রকাশ করা তাহাজ্জুদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
চতুর্থত, তাহাজ্জুদ নামাজের পর দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি দোয়া কবুলের বিশেষ সময়।
নিজের গুনাহের ক্ষমা চাওয়া, দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা করা, পরিবার ও উম্মাহর জন্য দোয়া করা—সবই এই সময়ে করা সুন্নাহসম্মত।
রাসূলুল্লাহ (সা.) তাহাজ্জুদের সময় দীর্ঘ দোয়া করতেন এবং কান্নার সঙ্গে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করতেন।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “তারা রাতের অল্প অংশেই নিদ্রায় থাকত এবং শেষ রাতে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত।” (সূরা জারিয়াত: ১৭-১৮)।
আরও পড়ুনঃ তারাবির নামাজ না পড়লে কি রোজা হবে না?
পঞ্চমত, তাহাজ্জুদ নামাজ নিয়মিত আদায়ের জন্য কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। যেমন, এশার পর দেরি না করে ঘুমানো, অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজ কমানো এবং মনে দৃঢ় ইচ্ছা রাখা যে রাতে উঠতে হবে।
কেউ যদি প্রতিদিন না পারেও, সপ্তাহে দুই বা তিন দিন তাহাজ্জুদ আদায় করার চেষ্টা করা উচিত। ধীরে ধীরে এই অভ্যাস গড়ে উঠলে তা জীবনের অংশ হয়ে যায়।
তাহাজ্জুদ নামাজের সঠিক সময় হলো এশার পর ঘুমিয়ে রাতের শেষ অংশে ফজরের আগে জেগে নামাজ আদায় করা। এর নির্দিষ্ট রাকাত সংখ্যা নেই, তবে দুই রাকাত করে পড়া উত্তম এবং শেষে বিতর আদায় করা সুন্নাহ।
খুশু-খুজু সহকারে কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করলে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন সহজ হয়।
যে ব্যক্তি নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়ে, তার হৃদয় নরম হয়, গুনাহ থেকে দূরে থাকার শক্তি পায় এবং দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ লাভ করে।
মন্তব্য করুন

