শুক্রবার
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শর্ত না মানলে কলেজের অধিভুক্তি বাতিল করা হবে: হবিগঞ্জে ভিসি আমানুল্লাহ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ
expand
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত শর্ত ও বিধিমালা যারা মানবে না, তাদের কলেজের অধিভুক্তি বাতিল করা হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপত্তি বা অজুহাত গ্রহণ করা হবে না।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে জেলার বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক এবং কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, অনেক কলেজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তির শর্ত মানছে না, যা উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হলে শর্ত মানার কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কঠোর অবস্থানে থাকবে।

তিনি আরও জানান, গত মঙ্গল ও বুধবার তিনি হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল, নবীগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলার মোট আটটি কলেজ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং শিক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

মতবিনিময় সভায় প্রফেসর ড. আমানুল্লাহ বলেন, অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান কিংবা চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার চাহিদা বিবেচনা না করেই নিজেদের পছন্দের বিষয়ে অধিভুক্তির আবেদন করেন, যা মোটেও কাম্য নয়। এতে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পিছিয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদা পূরণে বিবিএ, সিএসইসহ বিভিন্ন পেশাভিত্তিক বিষয়ে দক্ষ জনবলের সংকট তৈরি হয়েছে। অথচ এসব বিষয়ের অধিভুক্তির আবেদন তুলনামূলকভাবে কম। ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় রেখে সময়োপযোগী ও নতুন নতুন বিষয়ে অধিভুক্তির আবেদন করার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অনেক কলেজে নিয়মিত পরিচালনা পরিষদের সভা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, নিয়মিত সভা না হলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সমস্যা জানা যায় না। ফলে সমস্যার সমাধানও সম্ভব হয় না। এতে করে সমস্যা ধীরে ধীরে প্রকট আকার ধারণ করে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন, যা তাদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করে।

তিনি আরও বলেন, পরিচালনা পরিষদের নিয়মিত সভার মাধ্যমে কলেজের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।

সভা শেষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর আশ্বাস দিয়ে বলেন, উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়ন, কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কল্যাণে গৃহীত যে কোনো বাস্তবসম্মত উদ্যোগ বাস্তবায়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় কলেজগুলোর পাশে থাকবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X