

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশের বিভিন্ন জায়গায় সম্প্রতি ভূমিকম্পের পর অনেকেই হঠাৎ করেই আশপাশে কম্পনের অনুভূতি পাচ্ছেন, যদিও প্রকৃত কোনো ভূমিকম্প ঘটেনি। এই পরিস্থিতিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় “সিসমোফোবিয়া” বা ভূমিকম্প ভীতি বলা হয়। এটি এক ধরনের ক্লিনিক্যাল ফোবিয়া, যেখানে ভূমিকম্প শেষ হলেও মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত অযৌক্তিক ভয় ও উদ্বেগ তৈরি হয়।
গত ২১ নভেম্বর বাংলাদেশে পাঁচ দশমিক সাত মাত্রার একটি ভূমিকম্পের পর মাত্র বিশ দিনের মধ্যে অন্তত ছয়টি আফটার শক অনুভূত হয়েছে। ৪ ফেব্রুয়ারি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দু’টি ভূমিকম্প ঘটে, যার মধ্যে একটি মাত্র ৫ দশমিক নয় মাত্রার ছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অবস্থা পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার বা মানসিক ট্রমার প্রকাশ। সামান্য শব্দ বা পরিবেশগত পরিবর্তনও ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কেন হয় সিসমোফোবিয়া?
ভূমিকম্পের তীব্র অভিজ্ঞতা মস্তিষ্কের ভয়ের কেন্দ্র ‘অ্যামিগডালা’কে অতিসক্রিয় করে তোলে। এর ফলে সামান্য কম্পন বা শব্দেই শরীর বিপদের জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ তানভীর রহমান বলেন, ভূমিকম্পের ট্রমা মস্তিষ্কে স্থায়ী বিপদ সংকেত তৈরি করে এবং ভবন ভেঙে পড়ার ভয় মানুষের মধ্যে মৃত্যুর আতঙ্ক জাগিয়ে তোলে।
শারীরিক কারণও রয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন জানান, কানের ভিতরের এন্ডোলিম্ফ তরলের অস্থিরতা ভারসাম্য নষ্ট করে, যার ফলে কম্পনের অনুভূতি দীর্ঘায়িত হতে পারে। এছাড়াও মিডিয়ার গ্রাফিকাল কভারেজ মানুষের মধ্যে ভয় আরও বাড়িয়ে তোলে।
প্রতিকার
সিসমোফোবিয়া সম্পূর্ণরূপে নিরাময়যোগ্য। মনোবিজ্ঞানীরা কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি এবং এক্সপোজার থেরাপির মাধ্যমে অযৌক্তিক ভয় ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দেন।
সেফটি কিট, ভূমিকম্প-ড্রিল এবং প্রস্তুতিমূলক জ্ঞান মানুষকে সচেতন ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। ভূমিকম্প-প্রবণ দেশের মতো জাপানে যারা অভ্যস্ত, তাদের মধ্যে স্থায়ী ট্রমা কম দেখা যায়। তাই বাংলাদেশের জন্যও প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা ভয় কমাতে সাহায্য করবে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সিসমোফোবিয়া বা ভূমিকম্প ভীতি মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রভাব ফেলে থাকলেও সচেতনতা, চিকিৎসা এবং অভ্যাসের মাধ্যমে এর ভয় অনেকটাই কমানো সম্ভব।
মন্তব্য করুন

