শুক্রবার
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শবে কদরের রাতে বিশেষ আমল ও ফজিলত।

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

শবে কদর বা লাইলাতুল কদর ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় রাতগুলোর একটি। কুরআনুল কারিমে এই রাতকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, “লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।” (সূরা কদর:৩)। অর্থাৎ এই এক রাতের ইবাদতের সওয়াব প্রায় তিরাশি বছরের ইবাদতের সমান।

তাই এই রাত মুসলমানদের জন্য গুনাহ মাফ, রহমত ও নাজাত লাভের এক অনন্য সুযোগ।

আরও পড়ুনঃ তারাবির নামাজ ৮ রাকাত নাকি ২০ রাকাত? সঠিক সমাধান।

প্রথমত, শবে কদরের ফজিলত সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসে স্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে। এই রাতে কুরআন নাজিল হয়েছে এবং ফেরেশতারা দলে দলে আল্লাহর নির্দেশ নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন।

আল্লাহ বলেন, “সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রূহ (জিবরাইল) তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতরণ করে।” (সূরা কদর: ৪)।

এই রাত সম্পূর্ণ শান্তিময়, ফজর পর্যন্ত আল্লাহর রহমত বর্ষিত হতে থাকে।

দ্বিতীয়ত, শবে কদরের রাতে বিশেষ আমল হলো নামাজ আদায় করা।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে নামাজ আদায় করে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)।

আরও পড়ুনঃ তারাবির নামাজ না পড়লে কি রোজা হবে না?

তাই এই রাতে তাহাজ্জুদ ও নফল নামাজ বেশি বেশি আদায় করা উত্তম। দুই রাকাত করে মনোযোগ ও ধীরস্থিরভাবে নামাজ পড়া উচিত এবং সিজদায় দীর্ঘ সময় দোয়া করা সুন্নাহ।

তৃতীয়ত, কুরআন তিলাওয়াত শবে কদরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল। যেহেতু এই রাতেই কুরআন নাজিল হয়েছে, তাই কুরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করাই এই রাতের মূল শিক্ষা।

বেশি বেশি তিলাওয়াত করা, অর্থ বুঝে পড়ার চেষ্টা করা এবং নিজের জীবন কুরআনের আলোকে গড়ার নিয়ত করা এই রাতের শ্রেষ্ঠ ইবাদতগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

চতুর্থত, এই রাতে দোয়া ও ইস্তেগফার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হযরত আয়েশা (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন,

“হে আল্লাহর রাসূল, যদি আমি লাইলাতুল কদর পাই, তাহলে আমি কী দোয়া পড়ব?”

তিনি বললেন, “তুমি বলো— আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা‘ফু আন্নি।” (তিরমিজি)।

অর্থাৎ, হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন। এই দোয়াটি শবে কদরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রমাণিত দোয়া।

পঞ্চমত, শবে কদরের রাতে জিকির ও তাসবিহ পড়াও ফজিলতপূর্ণ আমল। যেমন, সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বেশি বেশি পড়া উচিত।

আরও পড়ুনঃ তাহাজ্জুদ নামাজের সঠিক সময় ও নিয়ম।

পাশাপাশি দরুদ শরিফ পাঠ করা এবং নিজের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে ক্ষমা চাওয়া এই রাতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।

ষষ্ঠত, শবে কদর নির্দিষ্ট কোনো একটি রাত নয়, বরং রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।” (সহিহ বুখারি)।

তাই ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ তারিখের রাতগুলোতে বিশেষভাবে ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ইতিকাফ করা। রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রতি বছর রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন, যাতে শবে কদর লাভ করা যায়।

ইতিকাফের মাধ্যমে মানুষ দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকে পুরোপুরি আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করতে পারে।

শবে কদর এমন একটি রাত যা আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের জন্য বিশেষ রহমত হিসেবে দিয়েছেন। এই রাতে নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া, ইস্তেগফার ও জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায়।

যে ব্যক্তি এই রাতকে ইবাদতের মাধ্যমে জীবন্ত রাখে, তার জীবনের গুনাহ মাফ হয় এবং ভবিষ্যতের জন্য হেদায়েত ও বরকত লাভ হয়।

তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত শবে কদরের রাতগুলোকে অবহেলা না করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X