

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে লক্ষ্য করে পায়ে গুলি করার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে—এমন একটি অডিও কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর লোহাগাড়া–সাতকানিয়া এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ফাঁস হওয়া ওই অডিওতে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচিত আরমান উদ্দিনের কণ্ঠ রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জোরালো দাবি উঠলেও এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অডিওতে একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে সহিংস পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অডিওতে কথোপকথনে অংশ নেওয়া দুই ব্যক্তির মধ্যে একজনের কণ্ঠ আরমান উদ্দিনের বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ফাঁস হওয়া ওই অডিওর একটি অংশে অপর ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘লোহাগাড়ায় কোনোভাবেই সংসদ সদস্য আসতে পারবেন না। তিনি এলে পায়ে গুলি করে জবাব দেওয়া হবে।’ এর জবাবে কথিতভাবে আরমান উদ্দিনের কন্ঠে বলতে শোনা যায়, তিনি বারবার সংসদ সদস্যকে লোহাগাড়ায় না আসার জন্য অনুরোধ করেছেন, কিন্তু জনগণের অনুরোধে তিনি সেখানে যেতে বাধ্য হন।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান ছিদ্দিকী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। পুলিশ এখনও কোনো অডিও লিংক বা আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ বা তথ্য নেই।
ফাঁস হওয়া ওই অডিওটির সত্যতা যাচাই কিংবা এ ঘটনায় কোনো ধরনের তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
আরমান উদ্দিনের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বিওসির মোড় এলাকার বাসিন্দা আরমান উদ্দিন। কয়েক বছর আগে থেকে তিনি জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর পিএ পরিচয় দিতে থাকেন। বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামে ব্যাপক প্রভাব রয়েছে আরমানের। শাহজাহান চৌধুরীর সাম্রাজ্যের পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করেন আরমান। সরকারের পতনের পর আরমান জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন।
শাহজাহান চৌধুরীর পক্ষ হয়ে প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে আরমানই সমন্বয় করেন। এ সম্পর্কের সুবাদে চট্টগ্রামে তার প্রভাব বাড়তে থাকে।
জামায়াতের একাধিক নেতা বলেন, জামায়াত নেতাদের সাধারণত পিএ বলতে কেউ থাকেন না। কিন্তু শাহজাহান চৌধুরী এর ব্যতিক্রম। তিনি ব্যক্তিগতভাবে আরমানকে সঙ্গে রাখেন। দলীয় গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়েও শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে আরমান উপস্থিত থাকেন। এতে করে বিব্রত হন বেশিরভাগ নেতারা।
চট্টগ্রাম জামায়াতের এক নেতা ঢাকা পোস্টকে বলেন, আরমান সিনিয়র নেতার পরিচয় দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা মালিক হয়েছেন। অবস্থা এমন- আরমান সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় এলে তাকে এমপির মতো করে প্রোটোকল দেয় জামায়াত পরিচয় দেওয়া কিছু লোক। তার প্রভাবে মূল জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিব্রত। আমরা একাধিকবার বিষয়টি শাহজাহান ভাইকে জানিয়েছি। কিন্তু প্রথমে একটু করে বকা দিলেও শাহজাহান চৌধুরী ঠিকই তাকে প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই কেন্দ্রে অভিযোগ জানানো হবে।
অডিওর বিষয়ে শাহজাহান চৌধুরীর পিএ আরমান উদ্দিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অপরদিকে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত মো. তারেকুল হকের মুঠোফোনটি বন্ধ রয়েছে।
