

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ওই দুই রাজ্যে ভ্রমণ ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিতের দাবিতে সরকারকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ আইনি নোটিশ পাঠান।
নোটিশটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে।
আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, প্রতিবছর চিকিৎসা, শিক্ষা, পর্যটন, ব্যবসা ও অন্যান্য বৈধ প্রয়োজনে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে ভ্রমণ করেন। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতের কিছু বাংলা ভাষাভাষী উগ্রবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে। এতে পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এসব হুমকির কারণে বাংলাদেশি নাগরিকরা হেনস্তা, নির্যাতন বা সহিংসতার শিকার হতে পারেন, যা তাদের জীবন ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এতে উল্লেখ করা হয়, অতীতে ভারতের কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশনে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। তাই বিদেশে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
নোটিশে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। প্রকাশ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও নাগরিকদের ওই এলাকায় ভ্রমণের সুযোগ অব্যাহত রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার সঙ্গে সংযুক্ত সব স্থলবন্দরে বাংলাদেশি নাগরিকদের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম অবিলম্বে সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে সন্তোষজনক কূটনৈতিক নিশ্চয়তা না দেওয়া পর্যন্ত ওই দুই রাজ্যগামী যাত্রীদের বিমানবন্দরভিত্তিক ইমিগ্রেশন কার্যক্রমও স্থগিত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নোটিশে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে নোটিশদাতাকে অবহিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
